ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল বা ইমেইল চেক করা চোখ খোলার সাথে সাথেই ফোনের নীল আলোতে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়। অফিসের মেসেজ বা ইমেইল দেখলে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, ফলে মন শান্তভাবে জেগে উঠতে পারে না। এর ফলস্বরূপ মনোযোগ কমে যায় এবং দিন শুরু হয় অস্থিরতা নিয়ে। দিনকে শান্তভাবে শুরু করতে এই অভ্যাসটি এড়িয়ে চলা আবশ্যক।
ঘুম ভাঙতেই কফি পান করা অনেকে ঘুম ভাঙতেই কফির কাপ হাতে নেন। কিন্তু এটি শরীরের স্বাভাবিক কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায়। এতে ক্যাফেইনের ওপর শরীরের নির্ভরতা বাড়ে এবং দিনের মধ্যভাগেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা তাই ঘুম থেকে ওঠার একটু পরে কফি পানের পরামর্শ দেন।
সকালে পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া রাতে ঘুমের সময় শরীর প্রয়োজনীয় পানি হারায়। সকালে এক গ্লাস পানি পান না করলে ডিহাইড্রেশনের কারণে মাথা ব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। চা বা কফি শরীরে পানির এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। তাই দিন শুরু করুন এক গ্লাস সাধারণ পানি দিয়ে, যা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
দিনের শুরুতে নেতিবাচক সংবাদ দেখা বা পড়া সকালে দুঃসংবাদ বা উদ্বেগজনক খবর পড়লে বা দেখলে মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) বেড়ে যায়, যা সারাদিনের মন খারাপের কারণ হতে পারে। সফল মানুষরা তাই সকালে খবর না দেখে বরং সঙ্গীত শোনেন, প্রার্থনা করেন বা ডায়েরি লেখেন। এতে মন শান্ত থাকে।
সকালে তর্ক বা ঝগড়া করা ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম দেড় ঘণ্টায় 'সেরোটোনিন' হরমোন কম থাকে, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই এই সময়ে ঝগড়া বা বিতর্ক করলে সারাদিনের মুড খারাপ হয়ে যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ আলাপ বা আলোচনা সকাল ৯টার পরে করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সূর্যের আলো এড়িয়ে যাওয়া ভোরের সূর্যালোক আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি (সার্কাডিয়ান রিদম) ঠিক রাখতে সহায়ক। সূর্যের আলো না পেলে ঘুমের সমস্যা, মনমরা ভাব বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাত্র ১৫ মিনিট সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি বাড়ায় ও মনকে ভালো রাখে। তাই সকালে কিছুক্ষণ বাইরে হাঁটুন বা বারান্দায় বসুন।
সোনালী সময়ের সঠিক ব্যবহার সকাল ৯টার আগের সময়টিকে শরীর ও মনের জন্য 'সোনালী সময়' বলা হয়। এই সময়টি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সারাদিন শক্তি, মনোযোগ আর ইতিবাচক ভাব বজায় থাকবে। দিন শুরু করুন সহজ কিছু ভালো অভ্যাস দিয়ে—যেমন এক গ্লাস পানি, কিছু সূর্যালোক এবং শান্ত মন নিয়ে।