শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই বিতরণে চরম ব্যর্থতা
এনসিটিবির বিতরণ শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাত পর্যন্ত মাধ্যমিকের মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৩ কপির মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ২৯ কোটি ৭১ হাজার ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি। অর্থাৎ, এখনো ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই বিতরণ বাকি রয়েছে। শতাংশের হিসাবে সার্বিক বিতরণ হার ৯৮.৯৮%। যদিও প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা
মাধ্যমিক স্তরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বই বিতরণে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৯৯% বই সরবরাহ হলেও, এখনো সপ্তম শ্রেণির ৫% এবং অষ্টম শ্রেণির ৩% শিক্ষার্থী তাদের প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই পায়নি। বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দেওয়ার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা এই পরিস্থিতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সিন্ডিকেটের মূলে কারা?
বই ছাপার এই সংকটের জন্য এনসিটিবির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবির চৌধুরী এবং বর্তমান সদস্য রিয়াদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু নির্দিষ্ট প্রেসকে কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন অনিয়ম করেছে।
নিম্নমানের কাগজ ও বৈষম্যের অভিযোগ
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র বাতিলের পর পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হলে 'প্রিন্ট মাস্টার' ও 'মাস্টার সিমেক্স' নামের দুটি প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৫% কম দরে কাজ পায়। অভিযোগ উঠেছে, এই দুটি প্রেসের সরবরাহ করা নিম্নমানের কাগজের বই সহজেই ছাড়পত্র পেলেও, অন্যান্য মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এই বৈষম্যই বই ছাপার স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করেছে।
পদে টিকে থাকার চেষ্টা রিয়াদ চৌধুরীর
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্রে অনিয়মের দায়ে সদস্য রিয়াদ চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তিনি কৌশলে পদে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে চলতি বছরের বই ছাপার কাজ শেষ হলে গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে জানুয়ারি মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো বহাল আছেন। অভিযোগ উঠেছে, সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান 'মাস্টার সিমেক্স' তাকে পদে টিকিয়ে রাখতে পর্দার আড়ালে তৎপরতা চালাচ্ছে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যানের স্বীকারোক্তি
এনসিটিবি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহবুবুল হক পাটওয়ারী স্বীকার করেছেন যে, ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হলেও, সেটিও ব্যর্থ হয়।