আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হলে তার জন্য সরাসরি আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একইসঙ্গে ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে নয়াদিল্লিকে কড়া কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে ঢাকা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়।
নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি ও উসকানির অভিযোগ
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগের পর এটিই ছিল তার প্রথম কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি। উক্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছেন এবং আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করতে তার দলীয় সমর্থকদের সহিংস পথে নামার প্ররোচনা দিয়েছেন বলে মনে করছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি' হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি ও ভারতের ভূমিকা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ‘দ্বিপাক্ষিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি’ (Extradition Treaty) থাকা সত্ত্বেও ভারত এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর’ (Democratic Transition) এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সংকট
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতের মতো একটি বন্ধুপ্রতিম দেশের রাজধানীতে একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ (Hate Speech) দেওয়ার সুযোগ দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা ও সার্বভৌমত্বের (Sovereignty) প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরিপন্থি। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের যে বৈশ্বিক মানদণ্ড রয়েছে, এই ঘটনা তার লঙ্ঘন। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের যৌক্তিকতা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক অবস্থানই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যদি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা রাষ্ট্রীয় জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বার্তায় পুনরুক্ত করেছে যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে আওয়ামী লীগের যেকোনো অপতৎপরতার দায়ভার শেষ পর্যন্ত দলটির ওপরেই বর্তাবে।