রাশিয়া এবং কাতারের মতো উত্তর আমেরিকার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরেও রাজনীতি মুখ্য হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের অসন্তোষ কি ফুটবলবিশ্বের হেভিওয়েট দেশগুলোকে এ টুর্নামেন্ট বয়কটে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে—এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় সরকারগুলোর সম্পর্কের টানাপড়েনের ফলে কিছু মহলে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। রাজনীতিবিদ, ভক্ত এবং ফুটবল কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড; বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডসংক্রান্ত নীতি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
ডেনমার্কের সতর্কবার্তা: গ্রিনল্যান্ড নীতি কার্যকর হলে বয়কট
ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের মুখপাত্র মগেন্স জেনসেন জানিয়েছেন, ডেনমার্ক এখনই বয়কটের ডাক দিচ্ছে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে আগ্রাসন চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে বয়কট নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা'র সভায় শুল্ক নিয়ে আলোচনা
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা একটি সভা করেছে। সেই সভায় ইউরোপের আট দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ন্যাটোর চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তিনি এ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবেন।
শুল্কের কবলে পড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড এরই মধ্যে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কঠিন হবে
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটসের সংসদ সদস্য রডরিখ কিসেওয়েটার এ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যদি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি কার্যকর করেন এবং ইইউর (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন, তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কল্পনা করাও কঠিন।'