• দেশজুড়ে
  • নীলফামারীর ডিমলায় সরিষা ফুলের ‘হলুদ মোহ’, ভিড় করছে হাজারো দর্শনার্থী

নীলফামারীর ডিমলায় সরিষা ফুলের ‘হলুদ মোহ’, ভিড় করছে হাজারো দর্শনার্থী

নীলফামারীর ডিমলায় মাঘের শুরুতে সরিষা ফুলের হলুদ গালিচা দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও ভিড় করছেন অনেকে। তবে তীব্র শীত ও ভিড়ের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নীলফামারীর ডিমলায় সরিষা ফুলের ‘হলুদ মোহ’, ভিড় করছে হাজারো দর্শনার্থী

মাঘের শুরুতেই নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জনপদ যেন হলুদ এক প্রাকৃতিক ক্যানভাসে রূপ নিয়েছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে ফুটে থাকা সরিষা ফুলের অপূর্ব সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তবে টানা শৈত্যপ্রবাহ এবং দর্শনার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশে ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

দিগন্তজোড়া হলুদ প্রকৃতি ও দর্শনার্থীদের ভিড়

বিকেলের নরম আলোয় সরিষা ফুলের খেত আরও উজ্জ্বল ও মোহনীয় হয়ে উঠছে। দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য চোখে পড়তেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের বাঘেরপুল (চেয়ারম্যানপাড়া) এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা তিস্তা নদীর প্রধান খাল এবং কাঁকড়া বাজার আঞ্চলিক সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ায় সহজেই দর্শনার্থীদের নজরে আসছে। মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ নানা যানবাহনে করে দর্শনার্থীরা এসে ছবি, সেলফি ও ভিডিও ধারণ করছেন। তিস্তা ব্যারেজে ঘুরতে আসা রংপুর থেকে আগত তুহিন ও সবুজ জানান, হলুদ রং মনকে শান্ত করে দেয় এবং চারপাশের দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন হঠাৎ রঙিন এক স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন।

কৃষকের দুশ্চিন্তা: শীত ও অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ

সরষে চাষে খরচ কম এবং শ্রমও তুলনামূলকভাবে কম লাগায় প্রান্তিক কৃষকদের বাড়তি আয়ের এটি একটি বড় ভরসা। তবে এবার ফলনের সম্ভাবনা ভালো হলেও, টানা কয়েক দিনের শীতে কিছু ফুল ঝরে পড়েছে। চেয়ারম্যানপাড়া এলাকার কৃষক আজগর আলী জানান, প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত দর্শনার্থী খেতে ঢুকে গাছ ভেঙে দিচ্ছেন এবং ফুল নষ্ট করছেন, যা ফসলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাঁর পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ও পরামর্শ

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ডিমলার ১০টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। তবে গত বছরের তুলনায় সরিষার আবাদ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না জানান, একটানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে কোথাও কোথাও গাছের বৃদ্ধি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। রোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দর্শনার্থীদের সরিষাখেতে প্রবেশ না করে সড়কের পাশ থেকেই সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মধু আহরণ ও ফলন বৃদ্ধি

এদিকে গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ফুটানির হাট এলাকায় বিস্তীর্ণ সরিষাখেতে মৌবক্স স্থাপন করে মধু আহরণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে খাঁটি মধু উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার ফলন বৃদ্ধিতেও সহায়তা মিলছে। স্থানীয়দের মতে, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি কৃষকের ফসল রক্ষায় দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ এখন সময়ের দাবি।

Tags: agriculture nilphamari tourism mustard field dimla sarisha flower winter crop farmer concern