বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিগত এক বছরে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের সীমান্ত এলাকা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোট ১ হাজার ৯০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা সমমূল্যের বিভিন্ন প্রকার চোরাচালান পণ্য ও সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ফলে সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ভাণ্ডার ও বিস্ফোরক
বিজিবির অভিযানে কেবল পণ্য নয়, উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে ৬৪টি পিস্তল, ২টি সাব-মেশিনগান (SMG), ১০টি রাইফেল, ৩টি রিভলভার, ৫৬টি বিভিন্ন প্রকার গান (Gun) এবং ১৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড। এ ছাড়াও ১৫২৯টি বিভিন্ন বোরর গোলাবারুদ, ৫৭টি ম্যাগাজিন, ৮টি মর্টার শেল, ৭৩ হাজার ১০০টি সিসার গুলি এবং ২০.০৫ কেজি গান পাউডার জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে ৪টি মাইন, ৭৯টি হাতবোমা, ৪০টি পেট্রোল বোমা এবং ১৭৮টি ককটেল উদ্ধার করে দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি রুখে দিয়েছে এই আধা-সামরিক বাহিনী।
মাদকবিরোধী অভিযানে রেকর্ড সাফল্য
মাদকাসক্তি প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর অবস্থান ফুটে উঠেছে তাদের উদ্ধারকৃত মাদকের পরিসংখ্যানে। এক বছরে বিজিবি ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ২৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। সেই সাথে ৫৬ কেজি হেরোইন, ১৩ কেজি ৬৪৭ গ্রাম উচ্চমূল্যের কোকেন এবং বিপুল পরিমাণ ‘ক্রিস্টাল মেথ আইস’ জব্দ করা হয়েছে। মাদক তালিকার অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বিদেশি মদ, ফেনসিডিল, গাঁজা এবং নিষিদ্ধ উত্তেজক ইনজেকশন। মাদক চোরাচালান রুখতে বিজিবি তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সাফল্য পেয়েছে।
গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ
চোরাচালান ও মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে বিগত এক বছরে ২ হাজার ৩৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪ হাজার ২৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও অনুপ্রবেশের ঘটনায় ১২৪ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৭ হাজার ৩৬৮ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করার পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে তাদের এই কঠোর অবস্থান ও টহল কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।