ভোলার রাজনীতির আঙিনায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ‘আমি না দলের, না মার্কার, আমি সবার’— এমন এক ব্যতিক্রমী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্লোগান নিয়ে ভোলা-১ (সদর) আসনের অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও বিএনপি জোটের এই হেভিওয়েট প্রার্থী। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোলা শহরের রাজপথে তার গণসংযোগকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
জনসমুদ্রে পরিণত হলো নির্বাচনী প্রচারণা
গোধূলি লগ্ন পেরিয়ে রাত বাড়ার সাথে সাথে শহরের উকিল পাড়া এলাকা থেকে নিজের নির্বাচনী প্রতীক ‘গরুর গাড়ি’র পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন পার্থ। প্রচারণাটি যখন সদর রোডের দিকে অগ্রসর হয়, তখন সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি উৎসুক জনতার ভিড়ে সেটি এক বিশাল মিছিলে রূপ নেয়। পথে পথে সাধারণ ব্যবসায়ী, পথচারী এবং রিকশাচালকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। অনেককে গাড়ি থামিয়ে এই তরুণ নেতার সাথে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়। সাধারণ ভোটারদের সাথে এই নিবিড় ‘Public Engagement’ নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে বড় হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দুর্নীতিমুক্ত ভোলা ও উন্নয়ন তত্ত্বে জোর
গণসংযোগ চলাকালীন গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে ব্যারিস্টার পার্থ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি এমন এক ভোলা গড়তে চাই যা হবে অন্যায়, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজিমুক্ত। আমাদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।”
ভোলার পিছিয়ে পড়া জনপদকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এই ‘Infrastructure Development’ সম্পন্ন হলে ভোলার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। জাতীয় সংসদে ভোলার সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের বিকল্প নেই।”
দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ‘আস্থা’র রাজনীতি
বিজেপি চেয়ারম্যান হলেও বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে পার্থের প্রতি। তবে তার প্রচারণায় দলীয় পরিচয়ের চেয়েও ব্যক্তি ইমেজের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। পার্থের মতে, “প্রতিশ্রুতি সব প্রার্থীই দেয়, কিন্তু ভোটাররা কাকে বিশ্বাস করবে সেটাই আসল কথা (Political Trust)। আমার বিশ্বাস, ভোলার মানুষ আমার ওপর আস্থা রাখবে এবং আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই তার প্রতিফলন ঘটবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বিএনপি কর্মীরা আমার জন্য মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তবে আমি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। আমি সবার জন্য কাজ করতে চাই এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এগিয়ে যাওয়াই আমার মূল ‘Strategy’।”
ভোলার লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ
ভোলার সদর আসনে পার্থের এই বিশাল শোডাউন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে পার্থের গ্রহণযোগ্যতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার জনপ্রিয়তা ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোলার ভোটাররা ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীকের এই সারথিকে কতটা আপন করে নেয়।