দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের ৮ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— জেলা বিএনপির সদস্য দেলোয়ার হোসেন, তাজুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, জসিম মোল্লা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সেলিনা আক্তার বীনা, জেলার সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ভুইয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ এবং কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের।
বহিষ্কারের সংখ্যা বাড়ল ১৩ জনে
মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার এই ১১ জন নেতাকে বহিষ্কার করার মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনে জেলায় বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জনে। এর আগে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন এবং মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ মোমিন আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এছাড়াও জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মাসুদ রানা, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ফকির এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মজিবুর রহমানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আরও পদক্ষেপ
মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করার ঘটনায় তার ভাইসহ ইউনিয়ন বিএনপির আরও ৩ নেতাকে বহিষ্কার এবং দুটি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বহিষ্কৃত এই ৩ নেতা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের ভাই ও সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, মহাকালি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন ভূইয়া এবং রামপাল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শওকত। উল্লেখ্য, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই। বহিষ্কারের পাশাপাশি মহাকালি ইউনিয়ন ও রামপাল ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঘোষণা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে এই সকল সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।