বিপুল নির্মাণ ব্যয় ও স্বত্ব ক্রয়
১০৪ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন ব্রেট রাটনার, যিনি ‘রাশ আওয়ার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য পরিচিত হলেও ২০১৭ সালে যৌন হেনস্তার অভিযোগের কারণে মূলধারার সিনেমা থেকে সরে গিয়েছিলেন। সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় ছিল ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এমজিএম স্টুডিওজ তথ্যচিত্রটির স্বত্ব কিনেছে ৪০ মিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে স্বত্ব কিনে এমজিএম স্টুডিওজ ট্রাম্প প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। কারণ মাইকেল মুরের আলোচিত তথ্যচিত্র ‘ফারেনহাইট ৯/১১’-এর বাজেট ছিল মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলার, যার তুলনায় এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
মেলানিয়ার পারিশ্রমিক
তথ্যচিত্রটির প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প নিজেও, মার্ক বেকম্যান ও ফার্নান্দো সুলিচিন। সংবাদ সংস্থা এএফপির মতে, নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে থাকা মেলানিয়া তথ্যচিত্রটির মোট ৪০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পেতে পারেন। এটি তথ্যচিত্রের ইতিহাসে বিরল, যা বিতর্কের অন্যতম কারণ।
বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তথ্যচিত্রটির বিপুল বাজেট, সীমিত দর্শক এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে এটিকে অনেকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তথ্যচিত্রগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে দেখছেন। সিএনএনের বিশ্লেষক হ্যারি এন্টেন প্রশ্ন তুলেছেন, এত দাম দিয়ে এই তথ্যচিত্র কেনার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক অনুকম্পা পাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকে বলছেন, এটি কোনো সৃজনশীল কাজ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক সিনেমা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিনেমাটি মুক্তির আগে নানা সমালোচনা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে অনেক হলে এখনো টিকিট বিক্রি হয়নি। যদিও প্রযোজক মার্ক বেকম্যান এটিকে সৃজনশীল কাজ হিসেবে দাবি করেছেন।
মুক্তি ও প্রদর্শনী
তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প ছাড়াও প্রায় ৭০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি প্রায় ১ হাজার ৬০০ হলে মুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৫০০ হলই যুক্তরাষ্ট্রে। তবে ‘বর্তমান পরিস্থিতির কারণে’ দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশক।