• দেশজুড়ে
  • আচরণবিধির তোয়াক্কা নেই রাজধানীতে: রঙিন বিলবোর্ড ও পোস্টারে সয়লাব নির্বাচনী মাঠ

আচরণবিধির তোয়াক্কা নেই রাজধানীতে: রঙিন বিলবোর্ড ও পোস্টারে সয়লাব নির্বাচনী মাঠ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
আচরণবিধির তোয়াক্কা নেই রাজধানীতে: রঙিন বিলবোর্ড ও পোস্টারে সয়লাব নির্বাচনী মাঠ

ডিজিটাল প্রচারণার নিয়মেও দেয়ালে পোস্টার ও রাজপথে রঙিন বিলবোর্ড; রাজনৈতিক দল থেকে স্বতন্ত্র—সবার বিরুদ্ধেই বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উৎসবের আমেজ চললেও রাজধানীর রাজপথে দৃশ্যত উপেক্ষিত হচ্ছে নির্বাচনী আচরণবিধি (Electoral Code of Conduct)। নির্বাচন কমিশনের (EC) কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা মহানগরীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সর্বত্রই চোখে পড়ছে প্রারীদের রঙিন বিলবোর্ড, ফেস্টুন আর দেয়ালে সাঁটানো পোস্টার। বিধিমালা অনুযায়ী প্রচারণার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনা হলেও বাস্তবে প্রার্থীরা পুরোনো ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতেই ভোট চাইছেন, যা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

আচরণবিধি ২০২৫: কাগজে নয়, গুরুত্ব ডিজিটাল প্রচারণায়

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী—নির্বাচনী প্রচারণায় কাগজের পোস্টার দেয়ালে সাঁটানো বা ঝোলানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবারের বিধিমালায় একমাত্র ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে রঙিন প্রচারণার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আকার ও সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হলেও সেখানে রঙিন বিলবোর্ড (Colorful Billboard) ব্যবহারের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অনুমোদন নেই। অথচ রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এখন প্রার্থীদের বিশাল বিশাল রঙিন বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি।

দলীয় ও স্বতন্ত্র—কারোরই নেই নিয়ম মানার বালাই

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-১২ আসনে বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক সবচেয়ে বেশি। এখানে এবি পার্টি, লেবার পার্টি এমনকি জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর অসংখ্য পোস্টার ও ফেস্টুন দেয়াল দখল করে আছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই এই দৌড়ে। অলিগলির দেয়ালে দেয়ালে নানা নকশার রঙিন ফেস্টুন যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

নিজেদের সাফাই গেয়ে জামায়াত সমর্থিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “আমাদের বর্তমানে কোনো কাগুজে পোস্টার নেই। যদি কোথাও থেকে থাকে, তবে সেগুলো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগের। পুরোনো সব পোস্টার রাতারাতি সরানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া আমরা নতুন করে কোনো রঙিন ব্যানার বা বিলবোর্ড করিনি।”

একই সুর শোনা গেছে বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী সাইফুল হকের কণ্ঠেও। ঢাকা-১২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তার পোস্টার এখনও দেখা যাচ্ছে ঢাকা-৮ আসনে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুরুতে আমি ঢাকা-৮ আসনে লড়াই করতে চেয়েছিলাম, তাই কিছু পোস্টার লাগানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি ঢাকা-১২ আসনের জন্য আলাদা কোনো পোস্টার ছাপাইনি। যদি কোথাও দেখা যায়, তবে সেটি পুরোনো ভুলের অংশ হতে পারে।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নিরবও দাবি করেছেন তিনি আচরণবিধি (Code of Conduct) মেনেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নতুন নতুন পোস্টার লাগালেও তার প্রচার সামগ্রী সবই পুরনো এবং সেগুলো সরানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ইসি’র অবস্থান: ‘মাঠের পরিবেশ চমৎকার’

এতসব দৃশ্যমান বিধি লঙ্ঘনের পরও নির্বাচন কমিশন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “কমিশন মনে করে অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছু বিচ্যুতি আমাদের নজরে আসছে। গণমাধ্যমে যা উঠে আসছে, তা আমরা তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (Returning Officers) অবহিত করছি।”

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসির দেওয়া তথ্যমতে, সারা দেশের ১২৮টি নির্বাচনী এলাকায় এখন পর্যন্ত বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে সাধারণ ভোটারদের মতে, কেবল মামলা বা মৌখিক সতর্কবার্তায় কাজ হবে না। যদি প্রার্থীরা শুরুতেই আইন অমান্য করেন, তবে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, রাজধানীর বুক থেকে এই অবৈধ পোস্টার ও বিলবোর্ড হটাতে ইসি কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

Tags: election commission dhaka election saiful haque election news code conduct political posters billboard violation electoral rules