আপসহীন নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার মূল্যায়ন
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে আয়োজিত এক নাগরিক শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। তিনি এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি। এই আপসহীনতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে এবং বিশ্বনেতাদের সমকক্ষ করেছে।
নির্বাচন-পরবর্তী কঠিন লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র চর্চার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। জীবন সহজ হবে না। গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা
শোক সভায় বেগম জিয়ার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন রাজনীতিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা। দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক জন সি. ম্যাক্সওয়েলের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, খালেদা জিয়া কেবল গণতন্ত্রের কথা বলেননি, তিনি নিজেই সেই পথে হেঁটেছেন।
বেগম জিয়াকে ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক’ আখ্যা দিয়ে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর অবদানকে চিরস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর গড়ে দেওয়া কৌশলগত ভিত্তি দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বেগম জিয়ার দেশপ্রেমের সেই উক্তি—'বাঁচতে হলে এ দেশেই বাঁচব, মরলে এ দেশেই'— তাঁকে ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এসএম ফজলুল হক এবং তুরস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খানও সভায় বক্তব্য দেন। বক্তারা একমত হন যে খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও আইনজীবীসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয় এবং শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।