আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রার্থীদের একাংশের করা এই অভিযোগগুলো মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভোটারদের সহানুভূতি পাওয়ার একটি বিশেষ কৌশল।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক রণকৌশল
নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক আচরণের যে নালিশ তোলা হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রশাসনের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক আচরণের যে অভিযোগ প্রার্থীরা করেছেন, তা নিছক রাজনৈতিক এবং ভোট টানার কৌশল। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো বিশেষ দলের হয়ে নয়, বরং রাষ্ট্রের স্বার্থে নির্বাচনকে প্রশ্নাতীত করতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।
নিরাপত্তার চাদরে দেশ: মোতায়েন প্রায় ১০ লাখ সদস্য
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ১০ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। বাহিনীর বিন্যাসটি নিম্নরূপ:
সেনাবাহিনী: ১ লাখ সদস্য।
পুলিশ: ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্য।
বিজিবি (BGB): ৩৭ হাজার সদস্য।
র্যাব (RAB): ১০ হাজার সদস্য।
আনসার: প্রায় ৬ লাখ সদস্য।
নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড: উপকূলীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ৫ হাজার নৌবাহিনী এবং ৫ হাজার কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও জানান, এবারই প্রথম উপকূলীয় এলাকায় ‘Navy’ এবং ‘Coast Guard’-এর নজরদারি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি (BNCC) সদস্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তির কড়া নজরদারি: বডি ক্যামেরা ও ড্রোন
নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং কোনো অনিয়ম হাতেনাতে ধরতে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মাঠে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কাছে এবার ‘Body Camera’ থাকবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি (CC) ক্যামেরা এবং আকাশপথে নজরদারির জন্য ‘Drone’ ব্যবহার করা হবে।” এই প্রযুক্তিগত সংযোজন নির্বাচনকে আরও বেশি ‘Transparent’ এবং গ্রহণযোগ্য করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনিসহ প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভা শেষে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল, সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমেই একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।