• জাতীয়
  • “পরিস্থিতি আগের যেকোনো বারের চেয়ে ভালো, সবাই এখন নির্বাচনমুখী”: টিআইবির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

“পরিস্থিতি আগের যেকোনো বারের চেয়ে ভালো, সবাই এখন নির্বাচনমুখী”: টিআইবির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
“পরিস্থিতি আগের যেকোনো বারের চেয়ে ভালো, সবাই এখন নির্বাচনমুখী”: টিআইবির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে টিআইবির তথ্যের জবাবে বিগত নির্বাচনের তুলনা টানলেন লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী; আশ্বস্ত করলেন সুন্দরবন ও উপকূলীয় নিরাপত্তা নিয়েও।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক ‘Law and Order’ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটলেও পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং উৎসবমুখর।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী সংঘাত ও টিআইবির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি টিআইবি তাদের এক পর্যবেক্ষণে জানায়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “টিআইবির রিপোর্টকে আমি অস্বীকার করছি না। তবে আপনারা টিআইবিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে কতজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল? সেই তুলনায় ‘আল্লাহর রহমতে’ এবারের পরিস্থিতি অনেক ভালো।”

তিনি আরও যোগ করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সহিংসতাগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, “নিজেদের ভেতর মারামারি শুরু হলে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা ‘ডিফিকাল্ট’ হয়ে পড়ে। আপনারা যদি এখানে হঠাৎ মারামারি শুরু করেন, তবে পুলিশ পৌঁছাতে পৌঁছাতে অঘটন ঘটে যেতে পারে। এমন দু-চারটি ঘটনা ঘটছে ঠিকই, কিন্তু মানুষ এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনমুখী।”

সহিংসতা প্রতিরোধ ও জনগণের ধৈর্য

সহিংসতা বাড়ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “সহিংসতা বাড়ছে না, বরং অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটছে। আমাদের ‘Law Enforcement Agencies’ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যে পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। তবে কেবল বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না, জনগণেরও ধৈর্য ধারণ করতে হবে। অনেক সময় সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে বড় সংঘাতের সৃষ্টি হয়, যা কাম্য নয়।” অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বড় আকারে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সুন্দরবন ও উপকূলীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গ

৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে সুন্দরবন জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে—এমন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “সুন্দরবন জলদস্যুদের হাতে চলে গেছে এমন তথ্য সঠিক নয়। যদি তাই হতো, তবে সেখানে এত ‘ট্যুরিস্ট’ (Tourists) বা পর্যটক যেতে পারতেন না। সুন্দরবন এখন আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” উপকূলীয় অঞ্চলে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি

এর আগে কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তরে সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্ট গার্ড সদস্যের হাতে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অপরিসীম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Tags: bangladesh election law enforcement election violence home advisor arms recovery coast guard internal conflict election security tib report sundarbans security