অচল ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতুতে স্থাপিত ‘এক্সেল লোড কন্ট্রোল সিস্টেম’ কার্যকর না থাকায় অতিরিক্ত পণ্যবাহী ভারী যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে অবাধে চলাচল করছে। ফলে সেতু ও মহাসড়ক দুটিই চরম ঝুঁকির মুখে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আইনি জটিলতা এড়াতে মাঝেমধ্যে দায়সারাভাবে ওজন পরিমাপ করে এবং সরকারি খাতায় জরিমানা দেখানোর জন্য নিজেরাই নামমাত্র টাকা পরিশোধ করে থাকে। অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে না আসার প্রধান কারণ হিসেবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলাকেই দায়ী করা হচ্ছে।
দীর্ঘসূত্রিতা ও ঠিকাদারের ভূমিকা সড়ক বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে ‘স্ট্যাটিক ওয়েব্রিজ’ স্থাপন করে জুলাই মাস থেকে এর অপারেশন শুরু করার কথা ছিল। তবে নানা জটিলতায় এই ওয়েব্রিজ স্থাপনেই দীর্ঘ আট বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়। অবশেষে টোল প্লাজার দুই পাশে দুটি ওয়েব্রিজ স্থাপন করা হলেও এক বছর পার হয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বা জরিমানা আদায় শূন্য। ২০১৭ সালের শেষদিকে দরপত্র আহ্বানের পর ১৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কোম্পানি ‘ইউডিসি-ভ্যান জেভি’-কে টোল আদায় ও ওয়েব্রিজ পরিচালনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্ত থাকলেও তারা তা শেষ করে আট বছর পর।
সেতু ও মহাসড়কের ওপর প্রভাব বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত ৯৫০ মিটার দীর্ঘ শাহ আমানত সেতুটি দেশের প্রথম ‘এক্সট্রাডোজড’ সেতু, যা ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাকের অবাধ চলাচলে বর্তমানে সেতু ও মহাসড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবহন মালিকদের বাধা ও নতুন নিয়োগের উদ্যোগ ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ইউডিসি-ভ্যান জেভির ডিরেক্টর (অপারেশন) পল্লব জানান, বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এই যন্ত্র স্থাপন করা হলেও ওজন পরিমাপ শুরু করলেই চালক ও পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে বাধার সৃষ্টি করা হয়। এই কারণে সিস্টেমটি কেবল ‘নামমাত্র’ চালু রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং নতুন কেউ দায়িত্ব নিলে সিস্টেমটি পুরোপুরি সচল হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।