• জাতীয়
  • ভিসা জটিলতা ও জালিয়াতি: আরও ‘দুঃসময় আসতে পারে’—পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভিসা জটিলতা ও জালিয়াতি: আরও ‘দুঃসময় আসতে পারে’—পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিদেশি ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জালিয়াতিকে দায়ী করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বললেন, জাতি হিসেবে নিজেদের ত্রুটি না শোধরালে আরও কঠিন পরিস্থিতি আসতে পারে।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ভিসা জটিলতা ও জালিয়াতি: আরও ‘দুঃসময় আসতে পারে’—পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা না পাওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্বীকার করেছেন যে এই দায় পুরো দেশের এবং সিস্টেমের। তিনি জালিয়াতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, জাতিগতভাবে নিজেদের ত্রুটি সংশোধন না করলে আরও খারাপ সময় আসতে পারে।

‘বাংলাদেশি নাগরিকদের যে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে এই দায় স্বীকার করতে রাজি না আমি। এটা দেশের দায়, পুরো সিস্টেমের দায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও না, ব্যক্তিগতভাবে আমারও না।’—বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এমন মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

ভিসা না পাওয়ার মূল কারণ জালিয়াতি

উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, পৃথিবীজুড়ে প্রচুর সুযোগ থাকলেও আমরা নিজেদের দোষে তা ব্যবহার করতে পারছি না। বিভিন্ন দেশ কর্তৃক ভিসা না দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে আমরা দায়ী। তিনি দেশের উচ্চমহলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, জালিয়াতিতে আমরা একেবারে সেরা। আপনি যখন জালিয়াতি করবেন, তখন আপনার কাগজ কেন বিশ্বাস করবে?’

নথি জালিয়াতির ভয়ঙ্কর চিত্র

তিনি জালিয়াতির একটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ভিসা ও অ্যাডমিশন—সবকিছু কাগজের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং কাগজ দেখে বিশ্বাস করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ‘কোনো মহিলা কোনো দেশে মেইডের চাকরি করতে গেছেন, কিন্তু তার ভিসা হলো ফ্রন্ট অফিসার ম্যানেজার হিসেবে। চিন্তা করুন যে আমরা কী পরিমাণ ধাপ্পাবাজি করেছি।’

জাতীয়ভাবে ঘর গোছানোর আহ্বান

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমরা যতক্ষণ ঘর না গোছাব, এই সমস্যার সমাধান হবে না। আরও দুঃসময় আসতে পারে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি নিয়ে মন্তব্য

শেষ সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি সই করছে, তা পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা হয়ে যাবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “আমি উল্টোটা মনে করি। আমি মনে করি আমরা অনেক ইস্যু এগিয়ে দিচ্ছি, যাতে পরবর্তী সরকারের জন্য কাজ করা সহজ হয়।”

Tags: interim government bangladesh foreign advisor visa issue tawhid hossain forgery overseas employment