• রাজনীতি
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা: ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রসংস্কারের রূপরেখা

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা: ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রসংস্কারের রূপরেখা

মাওলানা মামুনুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন দলের ২২ দফা কর্মসূচি, যেখানে বিগত সময়ের অন্যায়-অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত ইসলামী সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা: ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রসংস্কারের রূপরেখা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কার ও ইসলামী সুশাসনের রূপরেখা তুলে ধরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক রাজধানীর পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২২ দফা সংবলিত এই ইশতেহার প্রকাশ করেন। পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই ইশতেহারে বিগত সময়ের শাসন ব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি দূর করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার ও মানবিকতাকে মূলনীতি করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইশতেহারের মূল দর্শন ও কাঠামো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঘোষিত ইশতেহারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে উত্তরণের একটি সমন্বিত পথনকশা তুলে ধরা হয়েছে। এটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং মোট ২২ দফা সংবলিত। এতে দলটির রাজনৈতিক দর্শন, নৈতিক অবস্থান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি তুলে ধরে একটি বিস্তৃত ভূমিকা ও উপসংহার সংযুক্ত রয়েছে।

বিগত সময়ের শাসনব্যবস্থা ও সংস্কারের দাবি ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের শাসনব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। এতে একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার হরণ, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। দল এসব ঘটনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি দ্বিতীয় অধ্যায়ে খেলাফত মজলিস ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এগুলো হলো: সুষম উন্নয়ন ও নাগরিক জীবনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ; সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা; শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার; স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি; সর্বজনীন ও নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা; এবং কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা-ধর্মী কর্মসূচি। ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে মানুষ, চাকরি ও মানবিক নিরাপত্তা।

ধর্মীয় নীতি ও সামাজিক অধিকার তৃতীয় অধ্যায়ে ধর্মীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় নীতি, ইসলামী অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, কওমি মাদ্রাসা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, নারী ও শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ইসলামিক আকিদা ও মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

অপরাধ দমনে শূন্য সহনশীলতা চতুর্থ অধ্যায়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, গুম-খুন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, ঋণখেলাপি এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে 'শূন্য সহনশীলতা' ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। এসব অপরাধ দমনে বিশেষ আইন প্রণয়ন, স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরের অঙ্গীকার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। এসময় নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tags: political reform bangladesh politics mamunul haque election 2026 election manifesto bangladesh khilafat majlish islamic governance