খাগড়াছড়ি জেলা রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ভাটারা থানার একটি ভাড়া বাসায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার (SP) মো. মির্জা সায়েম মাহমুদ বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি ও দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, হামলা ও লুটতরাজসহ অন্তত ৪৭টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘অপারেশন ভাটারা’
পুলিশ সুপার জানান, রফিকুল আলম খাগড়াছড়ি থেকে পালিয়ে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় একটি গোপন আস্তানায় অবস্থান করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (DMP) সহযোগিতায় ভাটারা থানা এলাকায় ওই বাসার অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক আধিপত্য
রফিকুল আলম কেবল খাগড়াছড়ি পৌরসভার দুই মেয়াদের সফল মেয়রই ছিলেন না, বরং জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য। তাঁর পারিবারিক পরিচয়ও বেশ শক্তিশালী; তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলমের ভাই এবং সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের ছোট ভাই। তাঁর গ্রেপ্তারের সংবাদটি খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও ৪৭ মামলার বোঝা
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা পাহাড়সম। ৪৭টি মামলার বেশিরভাগই গত কয়েক মাসের অস্থিরতা এবং পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া (Legal Procedure) শেষ করে তাঁকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি ও বর্তমান পরিস্থিতি
রফিকুল আলমের গ্রেপ্তারের খবর পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতে পৌঁছালে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক থাকা এই ‘High Profile’ নেতাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ঝুলে থাকা অনেক মামলার তদন্তে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সাবেক এই মেয়রের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।