মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে মুন্সিকান্দি গ্রামে সংঘটিত এই সহিংসতায় অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রচারণা চলাকালে অতর্কিত হামলা ও সংঘর্ষ প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ১২টার দিকে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান মল্লিকের সমর্থকরা মুন্সিকান্দি এলাকায় প্রচারণায় বের হন। মিছিলটি গ্রামের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওজির আলী এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা আওলাদ মোল্লার অনুসারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা, ককটেল এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের শব্দে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২ জন ঢাকায় স্থানান্তরিত সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন মুন্সিকান্দি গ্রামের লিজন সরকার ও মনির হোসেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা ‘Critical Condition’ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (DMCH) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের শরীরে বুলেটের গভীর ক্ষত রয়েছে।
ভাইরাল ভিডিও ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন সহিংসতার এই ঘটনার একটি ‘Viral Video’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক হাতে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আলুর জমির ওপর দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে এবং প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। দিনের আলোতে এমন অস্ত্র প্রদর্শনী জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নির্বাচনী উত্তাপকে কাজে লাগিয়ে মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বক্তব্য ও পদক্ষেপ মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির গণমাধ্যমকে জানান, “মোল্লাকান্দিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুরনো বিরোধ ছিল। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ পুনরায় ‘Trigger’ করেছে, যার ফলে এই অপ্রীতিকর ঘটনা। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ‘Law Enforcement’ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে গিয়ে এমন সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।