ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের নির্বাচনী মাঠের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবেক বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ও দৃঢ় ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের রক্তচক্ষু তাকে দমাতে পারবে না।
হুমকির বিপরীতে কড়া হুঁশিয়ারি
জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তা প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, "আমি হুমকিতে এতটুকু টলবার মতো মানুষ নই। আমি নিজে কাউকে হুমকি দিই না, কিন্তু কেউ যদি আমার নেতাকর্মী কিংবা আমাকে ভয় দেখানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তাকে আমি আস্ত রাখি না।" নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই তাকে নানাভাবে বাধা ও হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই বাধাকেই তিনি নিজের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছেন।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও রাজনৈতিক সক্ষমতা
নিজের রাজনৈতিক সক্ষমতার উদাহরণ টেনে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, ‘দুইটি ইউনিয়ন নিয়ে যখন আমার সঙ্গে ঝামেলা করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তখন আমি শুধু পাল্টা জবাবই দেইনি; বরং আইনি ও কৌশলগত লড়াইয়ের মাধ্যমে সেই ইউনিয়ন দুটিকেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত করে এনেছি।’ তার এই বক্তব্য সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে।
মামলা ও চাঁদাবাজি মুক্ত এলাকার প্রতিশ্রুতি
বিগত ১৮ মাসের স্থানীয় পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, এই সময়ে এলাকায় ব্যাপক হারে 'মামলা বাণিজ্য' ও চাঁদাবাজি হয়েছে। তিনি বলেন, "সাধারণ মানুষকে যেভাবে জিম্মি করা হয়েছে, আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করব। যারা ভিত্তিহীন বা মিথ্যা মামলায় (False Cases) হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাদের আইনগত দিকটি আমি নিজে ব্যারিস্টার হিসেবে মোকাবিলা করব।"
ভোটকেন্দ্র পাহারার ডাক
ভোটারদের উদ্দেশ্যে রুমিন ফারহানা একটি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, ভোট দেওয়া যেমন নাগরিক অধিকার, সেই ভোট রক্ষা করাও দায়িত্ব। "কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আপনারা কেউ কেন্দ্র ছাড়বেন না। এই লড়াই সাধারণ মানুষের মুক্তির লড়াই।" তিনি তার সমর্থকদের সতর্ক থাকার এবং নির্বাচনী কারচুপি রুখতে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রুমিন ফারহানার এই ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ ইমেজ নির্বাচনী লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার আক্রমণাত্মক প্রচার কৌশল এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দেওয়া আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সরাইল-আশুগঞ্জের নির্বাচনী সমীকরণকে অনেকটা বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।