সরকারি প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে ১২ জন নন-ক্যাডার সহকারী সচিবকে সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে পদোন্নতি পেলেও এই কর্মকর্তারা ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য হবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
বিধিমালা ও প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত) গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪’-এর ৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী এই পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। এটি প্রশাসনের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতাকে যথাযথ মূল্যায়ন করার একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা
সিনিয়র সহকারী সচিব (Non-Cadre) পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১২ কর্মকর্তা হলেন: ১. মো. জুলহাজ আলী সরকার ২. মো. কবির হোসেন ৩. মো. আবু হারিস মিয়া ৪. আফরোজা বেগম ৫. মো. আবুল কালাম আজাদ ৬. মো. মামুন হোসেন ৭. মোসাম্মাৎ তাহমিনা খানম ৮. মোল্লা সোহাগ হোসেন ৯. মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১০. মো. কবির উদ্দিন হাওলাদার ১১. মো. আবু কায়েছ আকন্দ ও ১২. মো. হাবিবুর রহমান।
যোগদান প্রক্রিয়া ও বর্তমান কর্মস্থল
প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পদোন্নতির পর এই কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (Special Acting Officer) হিসেবে সিনিয়র সচিব বরাবর সরাসরি অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে যোগদানপত্র প্রেরণ করতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের নিরবচ্ছিন্ন কাজ নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা বর্তমানে যে কর্মস্থলে যে পদে নিয়োজিত আছেন, সেখানেই কর্মরত থাকবেন।
প্রশাসনিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষিত
সাধারণত বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সচিবালয়ের নিজস্ব নিয়োগ বিধিমালার অধীনে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। এটি সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড (Chain of Command) বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১২ কর্মকর্তার এই পদোন্নতিকে তাদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজে আরও গতি আসবে বলে আশা করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।