বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্র তিনি, ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অথচ সেই নেইমার জুনিয়র আজ দাঁড়িয়ে আছেন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের মোড়ে। ব্রাজিলীয় গণমাধ্যমের গুঞ্জন যদি সত্যি হয়, তবে আগামী বিশ্বকাপের স্কোয়াডে (Squad) জায়গা না পেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানাতে পারেন এই সুপারস্টার। সান্তোস তারকার এই সম্ভাব্য প্রস্থান কেবল সময়ের অপেক্ষা কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব।
আনচেলত্তির ‘আয়রন ফিস্ট’ ও নেইমার ভাগ্য ব্রাজিলের অধ অধরা ‘মিশন হেক্সা’ (Mission Hexa) পূরণের দায়িত্ব এখন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তির কাঁধে। সেলেসাওদের হেড কোচ হিসেবে আনচেলত্তি শুরুতেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন তার দর্শণ—দলে কোনো ‘নাম’ নয়, কেবল ‘পারফরম্যান্স’ এবং ‘ফিটনেস’ই হবে বিবেচ্য বিষয়। আনচেলত্তির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং (Strategic Planning)-এ নেইমারকে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে মূলত তার সাম্প্রতিক চোটের কারণে।
নেইমারের মিনিস্কাসে অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে চলছে দীর্ঘ পুনর্বাসন (Rehabilitation) প্রক্রিয়া। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য শতভাগ ফিটনেস ফিরে পাওয়া এখন হিমালয় জয়ের মতোই কঠিন। আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফিটনেস যদি ৮০ শতাংশও হয়, তবে সেই খেলোয়াড়কে ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হবে না। এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিই এখন নেইমারের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সান্তোসে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স বনাম ফিটনেস চ্যালেঞ্জ নেইমার যে ফুরিয়ে যাননি, তার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। গত মৌসুমে নজরকাড়া পারফরম্যান্স আর গোল করে ক্লাবকে রেলিগেশন (Relegation) থেকে রক্ষা করেছেন। কোচের গুডবুকে (Goodbook) থাকার মতো যথেষ্ট ফুটবল প্রতিভা এখনও নেইমারের পায়ে আছে, কিন্তু সমস্যাটা কেবলই তার শারীরিক সক্ষমতা বা এন্ডুরেন্স নিয়ে। বিশ্বকাপের মতো উচ্চ তীব্রতার টুর্নামেন্টে নেইমারের শরীর কতটা ধকল সইতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
মার্চ উইন্ডো: নেইমারের শেষ অগ্নিপরীক্ষা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মহড়ার জন্য আগামী মার্চ উইন্ডোকে (March Window) লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে ব্রাজিল। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে নেইমারকে। এই দুই ম্যাচে যদি তিনি মাঠে নামতে ব্যর্থ হন, তবে বিশ্বকাপের দরজা তার জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিদায়ের সুর কি তবে বাজছে? ব্রাজিলের একাধিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, নেইমার মানসিকভাবে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। যদি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তার নাম না থাকে, তবে তিনি জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখবেন। যদিও নেইমার কিংবা তার এজেন্টের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক স্টেটমেন্ট (Official Statement) আসেনি, তবে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি—ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলে হয়তো আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেখা যাবে না এই ‘নাম্বার টেন’কে।
পেলের রেকর্ড ভাঙা নেইমারের ক্যারিয়ার কি তবে একটি বিশ্বকাপ না জিতেই শেষ হবে? নাকি আনচেলত্তির কঠিন শর্ত পূরণ করে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন করবেন তিনি? উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা থাকল।