দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও যক্ষ্মা নির্মূল কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ৩১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকার ওষুধ ও উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’র বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বড় অংকের কার্টিজ কেনা হচ্ছে ইউএনওপিএস-এর মাধ্যমে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দেশের স্বাস্থ্যখাতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও নির্ভুল করতে ‘জিনএক্সপার্ট কার্টিজ’ (GeneXpert Cartridge) ক্রয়ের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিবিএম (DPM) বা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ১৪ লাখ ৮২ হাজার জিনএক্সপার্ট কার্টিজ সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই উচ্চপ্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা দফতর বা ইউএনওপিএস (UNOPS)-কে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই খাতে সরকারের ব্যয় হবে মোট ২৩৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এই উদ্যোগের ফলে সারা দেশে যক্ষ্মা নির্ণয় প্রক্রিয়ায় একটি নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন (Supply Chain) নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যক্ষ্মার ওষুধ সরবরাহে দেশীয় প্রতিষ্ঠান রেনেটা সরঞ্জাম ক্রয়ের পাশাপাশি যক্ষ্মা চিকিৎসায় ব্যবহৃত অতি প্রয়োজনীয় ‘অ্যান্টি-টিবি ড্রাগ’ (Anti-TB Drug 4FDC) কেনার প্রস্তাবটিও এদিনের বৈঠকে সবুজ সংকেত পেয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার ইউনিট ওষুধ কিনতে ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই বিশাল পরিমাণ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করবে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘রেনেটা পিএলসি’ (Renata PLC)। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত যক্ষ্মার ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংক্রান্ত চুক্তিতে নয়া মোড় এদিন ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে কেবল স্বাস্থ্যখাত নয়, আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রাথমিক শিক্ষা খাতও। ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ বা পিইডিপি-৪ (PEDP-4) প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪০ হাজার ৫৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি (Internet Connectivity) প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেডের সঙ্গে পূর্বে স্বাক্ষরিত ১১টি চুক্তি নবায়ন বা পুনঃনবায়নের প্রস্তাবটি টেবিলে উত্থাপিত হলে কমিটি তা পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ক্ষমতায় অনুমোদনের জন্য ছেড়ে দেয়। অর্থাৎ, এই ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এই ক্রয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন চিকিৎসা সেবায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল অবকাঠামো বা ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Digital Infrastructure) আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।