দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এই ভাষণে তিনি নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার বিষয়ে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকার দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন।
একযোগে সব গণমাধ্যমে সম্প্রচার
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই ভাষণটি গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রেকর্ড করা হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারসহ দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশন থেকে একযোগে সিইসির ভাষণটি সম্প্রচার করা হবে। নির্বাচনকে ঘিরে দেশব্যাপী যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে, সে বিষয়ে জনগণকে সরাসরি তথ্য প্রদান করাই এই ভাষণের মূল লক্ষ্য।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন: ড্রোন ও সিসি ক্যামেরা নজরদারি
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, সিইসি তাঁর ভাষণে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করবেন। এবারের নির্বাচনে সারাদেশে ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা (CC Camera) স্থাপন এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে ড্রোন নজরদারির (Drone Surveillance) মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার কৌশলগুলো দেশবাসীকে জানাবেন সিইসি। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই আহ্বানও জানানো হবে তাঁর ভাষণে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে নির্বাচনি ডামাডোল। আজকের ভাষণে তিনি নির্বাচনের সামগ্রিক লজিস্টিকস ও নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেবেন। একইসঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ভাষণের মাধ্যমে সিইসি মূলত ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান। নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো প্রকার গুজব বা শঙ্কা যেন সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী বার্তা দেবেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিও থাকবে সিইসির এই ভাষণের ওপর, যেখানে গণতন্ত্রের মানদণ্ড রক্ষায় কমিশনের প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটবে।