• দেশজুড়ে
  • কিশোরগঞ্জে জাল ভোটের অপরাধে কঠোর শাস্তি: ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের ২ বছরের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জে জাল ভোটের অপরাধে কঠোর শাস্তি: ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের ২ বছরের কারাদণ্ড

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
কিশোরগঞ্জে জাল ভোটের অপরাধে কঠোর শাস্তি: ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের ২ বছরের কারাদণ্ড

হোসেনপুরে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কারসাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা; ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডসহ দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিল প্রশাসন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও অনিয়মের চেষ্টা করে বড় ধরনের আইনি পলায়নের মুখে পড়েছেন এক যুবক। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অন্যের হয়ে জাল ভোট (Fake Vote) দেওয়ার অপরাধে ইমরান হোসাইন (২১) নামের এক যুবককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court)। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে কারসাজি ও তাৎক্ষণিক গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত ইমরান হোসাইন স্থানীয় পিপলাকান্দি গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ চলাকালীন ইমরান হোসাইন তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারার বা প্রক্সি দেওয়ার চেষ্টা করেন। কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর রায়

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বরত বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হন। হোসেনপুর উপজেলায় বিশেষ দায়িত্বে থাকা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কাউছার আলম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই সাজা প্রদান করেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটাধিকার হরণের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হওয়ায় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই কঠোর নিরাপত্তায় সাজাপ্রাপ্ত যুবককে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স

নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এবং স্থানীয় প্রশাসন শুরু থেকেই জাল ভোট বা যেকোনো ধরনের নির্বাচনী কারসাজি (Electoral Malpractice) রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছিল। কিশোরগঞ্জের এই ঘটনাটি অন্যান্য কেন্দ্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কাউছার আলম গণমাধ্যমকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে। যে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই অভিযান চলমান থাকবে।

কিশোরগঞ্জের এই কঠোর পদক্ষেপে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ভোটাররা মনে করছেন, অপরাধীদের এমন দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ভোট জালিয়াতির প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে।

Tags: bangladesh election mobile court court verdict kishoreganj news election fraud fake vote hossainpur update voting crime