• দেশজুড়ে
  • বাগেরহাটে ৮ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

বাগেরহাটে ৮ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
বাগেরহাটে ৮ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

সিংড়াই গ্রামে রিকশাচালক হাফিজুলের শিশুকন্যা মীমের মর্মান্তিক বিদায়; মৃত্যুর কারণ নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা, ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ।

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নে এক ৮ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সিংড়াই গ্রাম থেকে মীম আক্তার নামের ওই শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। অত্যন্ত অল্প বয়সী একটি শিশুর এমন মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।

নিস্তব্ধ বিকেলে শোকের মাতম

নিহত মীম আক্তার সিংড়াই গ্রামের পেশায় ‘Rickshaw Puller’ হাফিজুল আমিনের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে শিশুটির মামী ঘরের ভেতরে মীমের নিথর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ‘Spot’ বা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মেয়ের এমন আকস্মিক প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন বাবা হাফিজুল আমিন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমি দুপুরে খেয়ে রিকশা নিয়ে বের হয়েছিলাম। বিকেলে খবর পেলাম আমার কলিজার টুকরা আর নেই। কী থেকে কী হলো কিছুই মাথায় আসছে না।" তার এই হাহাকার পুরো গ্রামের পরিবেশকে ভারী করে তুলেছে।

দুর্ঘটনা নাকি নিগূঢ় রহস্য?

মীমের এই মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, ছোট ভাইয়ের সঙ্গে খেলার ছলে হয়তো কোনোভাবে গলায় ফাঁস লেগে গিয়েছিল। বয়সে ছোট হওয়ায় এবং নিজেকে মুক্ত করার কৌশল জানা না থাকায় এটি একটি ‘Fatal Accident’ বা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।

তবে এলাকাবাসীর অপর একটি অংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, ঘরের ভেতরে শিশুটিকে যেভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে, তা স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে এক ধরনের ‘Suspicion’ বা সন্দেহ দানা বেঁধেছে। স্থানীয় সচেতন সমাজ এই ঘটনার পেছনে কোনো অবহেলা বা অন্য কোনো ‘Criminal’ যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া

ঘটনার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অস্পষ্ট।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ‘Autopsy’ বা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অত্যন্ত জরুরি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই আইনগতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

বর্তমানে ‘Police Investigation’ বা পুলিশি তদন্ত চলমান থাকলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। শিশু মীমের এমন রহস্যময় মৃত্যু কেবল একটি পরিবারকে নিঃস্ব করেনি, বরং শিশু সুরক্ষা ও অসাবধানতার ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে স্থানীয় সমাজকে।

Tags: police investigation local news child death autopsy report bagerhat news hanging body rickshaw puller mim akter bagerhat sadar suspicious death