বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে এক ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে যুবদল নেতা মো. আলীমুজ্জামান রানার বসতবাড়ি লক্ষ্য করে এই নাশকতামূলক হামলা চালায় অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে পুরো বসতঘর ও রান্নাঘর ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই 'Arson Attack'-এ তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার সমপরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।
মধ্যরাতের ভয়াবহতা: জীবন বাঁচাতে পরিবারের আর্তনাদ ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আলীমুজ্জামান রানা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের তীব্র ধোঁয়া ও উত্তাপে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। তাকিয়ে দেখেন, কাঠ ও টিনশেডের তৈরি বসতঘরের চারপাশ দিয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কোনো রকমে প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় গ্রামবাসী ও 'Fire Service'-এর একটি ইউনিট দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামালসহ ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রাথমিক তদন্ত (Initial Investigation) অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর একটি দল 'Security Forces' হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেন।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "আগুনে আলীমুজ্জামান রানার ঘর ও রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী তার স্থানীয় প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।"
আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রেষারেষি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার (Political Dominance) নিয়ে ওই অঞ্চলে একটি পক্ষের সাথে রানার পুরনো বিরোধ রয়েছে। ওসি মাসুম খান আরও বলেন, "আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। 'Law and Order' বজায় রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে মান্দ্রা গ্রাম ও আশপাশ এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে সাধারণ মানুষের জানমালের ওপর এমন হামলা আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশে কাম্য নয় বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল। এখন দেখার বিষয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কত দ্রুত এই অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে।