লন্ডনের ফ্যাশন দুনিয়ার এক সময়ের অবিসংবাদিত আইকন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী অ্যানাবেল স্কোফিল্ড আর নেই। মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তার প্রয়াণে বিনোদন ও ফ্যাশন বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
র্যাম্প থেকে গ্ল্যামার জগতে উত্থান
১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ল্যানেলিতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যানাবেল স্কোফিল্ড। বড় পর্দার আবহে বেড়ে ওঠা অ্যানাবেল আশির দশকে লন্ডনের ফ্যাশন অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং গ্ল্যামারাস লুক তাকে দ্রুত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন ও শীর্ষ ম্যাগাজিনের পাতায় জায়গা করে দেয়। সেই সময়ে টিভি বিজ্ঞাপনে তার সরব উপস্থিতি তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিয়েছিল।
‘ডালাস’ ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা
ফ্যাশন জগত থেকে অভিনয়ে পা রেখেই বাজিমাত করেন অ্যানাবেল। জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘ডালাস’-এর মাধ্যমে তিনি গ্লোবাল প্রাইম-টাইম (Prime-time) স্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এই সিরিয়ালে কিংবদন্তি অভিনেতা ল্যারি হ্যাগম্যানের বিপরীতে ‘লরেল এলিস’ চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। এই একটি চরিত্রই তাকে হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত ভিত্তি গড়ে দেয়।
বক্স অফিস সাফল্য ও সিনেমা জীবন
নব্বইয়ের দশকে বেশ কিছু ব্লকবাস্টার ও ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন অ্যানাবেল স্কোফিল্ড। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘রোমান্সিং দ্য স্টোন’, ‘জেরি ম্যাগুয়ার’ এবং ‘অ্যাজ গুড অ্যাজ নাইট গেটস’। হলিউডের এই বক্স অফিস (Box Office) হিট সিনেমাগুলোতে তার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। এ ছাড়াও ‘সোলার ক্রাইসিস’, ‘ড্রাগনার্ড’ ও ‘আই অফ দ্য উইডো’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন।
ক্যামেরার পেছনে নতুন যাত্রা
অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের কারিগরি ও প্রশাসনিক দিকেও অ্যানাবেলের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে তিনি ক্যামেরার পেছনে প্রযোজনা (Production) সংশ্লিষ্ট কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ‘দ্য ব্রাদার্স গ্রিম’, ‘ডুম’ এবং ‘সিটি অফ এম্বার’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রোডাকশন রোলে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অ্যানাবেল স্কোফিল্ডের প্রয়াণে হলিউডের সতীর্থরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের বিরুদ্ধে তার অদম্য সাহসিকতা এবং বিনোদন জগতে তার অবদান দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।