দেশের সংগীত জগতের এক সময়ের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি রবি চৌধুরী ও ডলি সায়ন্তনী। নব্বইয়ের দশকের সেই স্বর্ণালী সময়ে তাদের বিচ্ছেদের খবর ভক্তদের বিষাদগ্রস্ত করেছিল। দীর্ঘ নীরবতার পর সম্প্রতি একটি ডিজিটাল পডকাস্টে এসে সেই বিচ্ছেদের নেপথ্যে ডলি সায়ন্তনীর 'পরকীয়া'র অভিযোগ তোলেন রবি চৌধুরী। তার এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর এবার পাল্টা জবাব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাজির হয়েছেন ডলি সায়ন্তনী। নিজের সম্মান রক্ষায় এবং জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।
পডকাস্ট বিতর্ক: ‘দুলাভাই’ রহস্য ও রবির দাবি
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে রবি চৌধুরী তাদের বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ডলি সায়ন্তনীর ফোনে ‘দুলাভাই’ নামে সেভ করা একটি সন্দেহজনক নম্বর থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত। রবির ভাষ্যমতে, বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি ডলির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানতে পারেন তাদের পরিবারে ওই নামে কোনো ‘দুলাভাই’ নেই। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে তিনি ডলির সঙ্গে জনৈক ব্যক্তির পরকীয়ার প্রমাণ পান বলেই দাবি করেন। রবির এই সরাসরি অভিযোগ মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ডলি সায়ন্তনীর কড়া জবাব
রবির বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস দেন ডলি সায়ন্তনী। সেখানে তিনি রবির আনা সকল অভিযোগকে ‘বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেন। ডলি লেখেন, "সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দীর্ঘকাল পর এই ধরনের ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি কেবল অপ্রাসঙ্গিকই নয়, বরং মানহানিকরও বটে।
বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কার ছিল?
রবির দাবির বিপরীতে ডলি সায়ন্তনী বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন। রবি চৌধুরী যেখানে ডলিকে দোষারোপ করে ডিভোর্সের সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন, সেখানে ডলি দাবি করেছেন, বিচ্ছেদের আবেদন তিনি নিজেই করেছিলেন। ডলি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, "ডিভোর্স আমি নিজেই দিয়েছিলাম। কেন সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলাম, তা তখনকার সময়ে প্রেস কনফারেন্স (Press Conference) করে বিস্তারিত জানিয়েছিলাম।" বর্তমান সময়ে এসে সেই পুরনো ক্ষত নিয়ে নতুন করে কোনো বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানান এই তারকা।
আইনি পর্যবেক্ষণ ও নীরবতা প্রসঙ্গে সতর্কতা
নিজের অবস্থানের সপক্ষে ডলি সায়ন্তনী আরও জানান যে, তিনি বর্তমানে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের প্রচলিত আইন ও সামাজিক সম্মানের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমাদের নীরবতাকে কেউ যেন দুর্বলতা ভাবার সুযোগ না পায়।" অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে না জড়িয়ে তিনি আইনি পথে হাঁটার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন। সংগীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনী মনে করেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিউ বা এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানোর নেশায় কারও ব্যক্তিগত জীবনকে এভাবে জনসমক্ষে আনা অনুচিত।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান
বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস চলছে। ডলি সায়ন্তনী তার বক্তব্যের শেষে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি লেখেন, "পবিত্র মাহে রমজানে আল্লাহ যেন সবাইকে ধৈর্য ও পবিত্রতা রক্ষার তৌফিক দান করেন।" ব্যক্তিগত বিষয়কে পাবলিক সার্কাসে পরিণত না করার জন্য তিনি গণমাধ্যম ও নেটিজেনদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে ডলি সায়ন্তনী ও রবি চৌধুরী উভয়েই নিজ নিজ অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত। বিচ্ছেদের বহু বছর পর এমন ব্যক্তিগত অভিযোগ ডিজিটাল যুগে সেলিব্রিটিদের 'প্রাইভেসি' এবং 'এথিক্যাল জার্নালিজম' নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। ভক্তরা আশা করছেন, এই কাদা ছোড়াছুড়ির অবসান ঘটে উভয় পক্ষের সম্মান বজায় থাকবে।