• আন্তর্জাতিক
  • উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় কি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান?

উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় কি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান?

শক্তিশালী রকেট বুস্টার ও ইঞ্জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে তেহরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় কি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান?

ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরমাণু বিস্তার বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুস ই. বেকটল জুনিয়রের মতে, তেহরান ইতোমধ্যেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির পথে অনেকটা পথ এগিয়ে গেছে। এই কর্মসূচিতে পিয়ংইয়ংয়ের সরবরাহ করা শক্তিশালী রকেট প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত ইঞ্জিন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে।

ইরান ও উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক অংশীদারিত্ব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং পরমাণু বিস্তার বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুস ই. বেকটল জুনিয়র। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ইরান এখন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির সক্ষমতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

রকেট প্রযুক্তি ও হোয়াসং-১৫ সংযোগ প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইরানকে প্রায় ৮০ টন থ্রাস্ট শক্তির রকেট বুস্টার প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। এই একই প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার বিখ্যাত 'হোয়াসং-১৫' আইসিবিএমে ব্যবহৃত হয়। উল্লেখ্য যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৮ হাজার মাইল, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তবে তাদের সামরিক সক্ষমতা এক নতুন স্তরে পৌঁছাবে।

শক্তিশালী আরডি-২৫০ ইঞ্জিনের ব্যবহার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এর ইঞ্জিন। ইরান এই প্রকল্পে 'আরডি-২৫০' (RD-250) ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইঞ্জিনগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার জন্য অপরিহার্য। ২০১৩ সাল থেকেই উত্তর কোরিয়া এই রকেট প্রযুক্তি উন্নয়নে তেহরানকে নিয়মিত সহায়তা দিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তির আদান-প্রদান ২০১৫ সালে যখন ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়েও উত্তর কোরিয়া থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রযুক্তি বিনিময়ের সঙ্গে জড়িত থাকা বেশ কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনেও উত্তর কোরিয়া থেকে ইরানে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র যন্ত্রাংশ পাঠানোর তথ্য উঠে এসেছিল।

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া হোয়াসং-১২, ১৪ এবং ১৫-এর মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পিয়ংইয়ংয়ের পরীক্ষিত এই প্রযুক্তি যদি ইরানের হাতে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি খুব দ্রুতই উন্নত আইআরবিএম (IRBM) এবং আইসিবিএম সক্ষমতা অর্জন করবে। ইরান ও উত্তর কোরিয়ার এই দীর্ঘদিনের 'স্কাড' ও 'নো-ডং' ক্ষেপণাস্ত্র সহযোগিতার ইতিহাস এখন এক নতুন ও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: নাইনটিন ফোরটি ফাইভ।

Tags: middle east iran military technology ballistic missile north korea us-iran-tension icbm