• আন্তর্জাতিক
  • মেহেরবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার বদলা: জেরুজালেম লক্ষ্য করে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মেহেরবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার বদলা: জেরুজালেম লক্ষ্য করে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মেহেরবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার বদলা: জেরুজালেম লক্ষ্য করে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

তেহরানে ইসরাইলি বিমান ধ্বংসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গর্জে উঠল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র; ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা ও হাই-অ্যালার্ট জারি।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাত এবার এক নতুন ও ভয়ংকর ধাপে প্রবেশ করেছে। তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহেরবাদে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর বিধ্বংসী হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। শনিবার (৭ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র (Missile) ছুড়েছে তেহরান, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

বদলান নিতে মরিয়া তেহরান: ইসরাইলি আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার সকালে ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এই হামলার পরপরই দক্ষিণ ইসরাইল এবং পবিত্র নগরী জেরুজালেমসহ আশেপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে সতর্কতা সাইরেন (Siren) বেজে ওঠে। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) সক্রিয় রয়েছে এবংIncoming হুমকির মোকাবিলা করছে। ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট (Intercept) করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও পুরো দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মেহেরবাদ বিমানবন্দরে ধ্বংসস্তূপ: ইসরাইলের ‘নিখুঁত’ আঘাত

ইরানের এই পাল্টা হামলার সূত্রপাত হয় শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে। ইসরাইলি বিমান বাহিনী তেহরানের অন্যতম ব্যস্ত মেহেরবাদ বিমানবন্দরে এক ‘ব্যাপক ও নতুন দফার’ বিমান হামলা চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ দাউদাউ করে জ্বলছে এবং আকাশের দিকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। স্যাটেলাইট চিত্রে (Satellite Imagery) দেখা গেছে, হামলার আগে ওই এলাকায় বেশ কিছু কার্গো ও যাত্রীবাহী বিমান অবস্থান করছিল। ইসরাইল দাবি করেছে, তেহরানের এই বিমানবন্দরটি সামরিক রসদ সরবরাহ এবং ড্রোন ও হেলিকপ্টার তৈরির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যা তাদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

শেল্টারে বাসিন্দারা: দক্ষিণ ইসরাইল ও জেরুজালেমে সাইরেন

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরপরই ইসরাইলের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে আসা জরুরি মেসেজ (Emergency Alert) পেয়ে বাসিন্দারা দ্রুত নিকটস্থ শেল্টারে (Shelter) আশ্রয় নেন। ‘টাইমস অব ইসরাইল’ জানিয়েছে, জেরুজালেম এবং দক্ষিণ ইসরাইলের বেশ কিছু অংশে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর হাই-অ্যালার্ট (High-Alert) জারি করা হয়। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর পরবর্তী সময়ে বাসিন্দাদের সুরক্ষিত স্থান ত্যাগ করার অনুমতি দিয়েছে সামরিক বাহিনী।

সংঘাতের নেপথ্যে: ৪ মার্চের হামলা ও কৌশলগত লড়াই

ইরান ও ইসরাইলের এই প্রত্যক্ষ সংঘাতের মাত্রা কয়েকদিন ধরেই বাড়ছে। এর আগে গত ৪ মার্চ মেহেরবাদ বিমানবন্দরে প্রথম দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল ইসরাইল। সে সময় তারা দাবি করেছিল, ইসরাইলি বিমান বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা ব্যাহত করতে পারে এমন প্রতিরক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই এই ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে। মূলত ইরানের হেলিকপ্টার তৈরির ইউনিট এবং রাডার সিস্টেম ছিল ইসরাইলের প্রধান টার্গেট।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইরান গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের খবরের মধ্যেই এই হামলা ও পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের (Total War) দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মেহেরবাদ বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে ইসরাইল যেমন ইরানের মনোবল ভাঙতে চাইছে, ঠিক তেমনি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরানও বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তারা ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর পথে হাঁটবে না।

Tags: middle east air defense world news missile attack war update military strike iran israel mehrabad airport idf update jerusalem alerts