মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল সৌদি আরবে। দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে আসা ছয়টি ড্রোন (Drones) এবং একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missile) আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শনিবার (৭ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
১ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের খনিতে ড্রোন হানা
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ এক বিবৃতিতে জানান, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল মরুভূমি 'এম্পটি কোয়ার্টার' (Empty Quarter) এলাকায় ছয়টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। ড্রোনগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল শায়বাহ (Shaybah) তেলক্ষেত্র। সৌদি আরবের জাতীয় তেল কোম্পানি আরামকোর (Aramco) তথ্যমতে, এই সমৃদ্ধ তেলক্ষেত্রটি থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ বা ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়।
মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য
তেলক্ষেত্রের পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি (Prince Sultan Air Base) লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিমানঘাঁটিটি মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান সামরিক অভিযানে ব্যবহার করছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি বেইস-এ আঘাত হানার আগেই সৌদি ইন্টারসেপ্টর (Interceptor) দ্বারা প্রতিহত করা হয়। এই হামলার মাধ্যমে ইরান সরাসরি মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে অচল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
আঞ্চলিক সংঘাতের অষ্টম দিন: আগুনের মুখে মধ্যপ্রাচ্য
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার এই সংঘাত আজ শনিবার অষ্টম দিনে পদার্পণ করল। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিমান হামলার জবাবে ইরান এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। তেহরানের এই প্রতিশোধমূলক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু কেবল ইসরাইল নয়, বরং বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি (US Bases) ও সামরিক স্থাপনা।
বিগত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে। বিশেষ করে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস সৌদি তেলক্ষেত্রে হামলার চেষ্টা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘন বা সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়লে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। পেন্টাগনও এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং অঞ্চলটিতে তাদের মোতায়েনকৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Defense System) আরও জোরদার করছে।