• আন্তর্জাতিক
  • ‘সবই আমাদের নজরে আছে’, ইরান-রাশিয়া আঁতাত নিয়ে পেন্টাগনের তীব্র হুঁশিয়ারি

‘সবই আমাদের নজরে আছে’, ইরান-রাশিয়া আঁতাত নিয়ে পেন্টাগনের তীব্র হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘সবই আমাদের নজরে আছে’, ইরান-রাশিয়া আঁতাত নিয়ে পেন্টাগনের তীব্র হুঁশিয়ারি

মার্কিন রণতরী ও রাডার সিস্টেমের অবস্থান তেহরানকে পাচার করছে মস্কো— এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানালেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিটি পদক্ষেপ ‘ট্র্যাক’ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছে রাশিয়া ও ইরানের নতুন সমীকরণ। মার্কিন সামরিক জাহাজ, বিমান এবং অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেমের (Radar System) অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে রাশিয়া গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে— এমন চাঞ্চল্যকর খবরে এবার নড়েচড়ে বসেছে ওয়াশিংটন। এই ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর ও সংকেতবাহী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পর্দার আড়ালে কে কার সঙ্গে কী কথা বলছে, তার প্রতিটি মুহূর্ত ট্র্যাক (Track) করছে পেন্টাগন।

‘কমান্ডার-ইন-চিফ সবকিছু অবগত’: হেগসেথের হুঙ্কার

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের (CBS News) জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় পিট হেগসেথ এই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আমেরিকার নাগরিকরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে, কে কার সঙ্গে তথ্য বিনিময় করছে সে বিষয়ে আমাদের কমান্ডার-ইন-চিফ (Commander-in-Chief) ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোপুরি অবগত। প্রকাশ্যে বা গোপনে যা-ই ঘটুক না কেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য যুদ্ধের পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে।”

হেগসেথের বক্তব্যে ইরান ও রাশিয়ার প্রতি এক প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের প্রধান কাজ হলো শত্রুদের বিপদে ফেলা। এখন শুধু সেই সব ইরানিদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত, যারা ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার আশা পোষণ করেন।”

ওয়াশিংটন পোস্টের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন ও গোয়েন্দা তথ্য

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট (Washington Post) তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে তেহরানকে কারিগরি ও গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে মস্কো। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন রণতরীর অবস্থান ও তাদের সার্ভেইল্যান্স (Surveillance) ক্ষমতা কতটুকু, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য রাশিয়ার মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছাচ্ছে। যদিও রাশিয়া এই বিষয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবে এই ধরনের তথ্য সরবরাহকে ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা পরোক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া হিসেবেই দেখছেন মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

পুতিনের কূটনৈতিক চাল ও খামেনির প্রয়াণ

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ক্রেমলিন (Kremlin) জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় তিনি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে পুতিন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে তথ্য সরবরাহ করে ইরানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করা এবং অন্যদিকে শান্তির আহ্বান জানানো— এটি রাশিয়ার একটি দ্বিমুখী স্ট্র্যাটেজিক (Strategic) মুভ হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক মেরুকরণ

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাশিয়া ও ইরানের এই সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো এখন আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে পেন্টাগনের দাবি, তাদের ডিটেকশন সিস্টেম (Detection System) এবং পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম। হেগসেথের এই সরাসরি মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন আগামী দিনগুলোতে ইরান ও রাশিয়ার এই আঁতাত ভাঙতে আরও কঠোর অর্থনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

Tags: middle east donald trump global conflict pete hegseth pentagon news russia iran intelligence sharing us tension radar system military strategy