দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের বাজারদর বাজুস প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) সরবরাহ ও মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী স্বর্ণের বিভিন্ন ক্যারেটের দর নিচে দেওয়া হলো:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ মার্চ স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা বাড়ল।
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রূপার দামও স্বর্ণের উত্তাপের আঁচ লেগেছে রূপার বাজারেও। বাজুস জানিয়েছে, রূপার দামও ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট রূপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা।
২১ ক্যারেট রূপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা।
১৮ ক্যারেট রূপা: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির রূপা: প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা।
অস্থির বাজার: বছরে ৪০ বার সমন্বয় বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে স্বর্ণের বাজার অত্যন্ত অস্থির (Volatile) সময় পার করছে। এই বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৪ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে গত ২০২৫ সালে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল বৃদ্ধির খবর।
রুপার ক্ষেত্রেও চিত্রটি একই রকম। চলতি বছর ২৫ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ বারই দাম বেড়েছে। বাজুস কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সংকটের কারণে ঘনঘন এই ‘Price Adjustment’ করতে হচ্ছে।
স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণের এই রেকর্ড দাম গয়না শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।