• দেশজুড়ে
  • ১০ বছরে একবারও দেশে আসেননি নূরনবী, মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ডে গেল প্রাণ

১০ বছরে একবারও দেশে আসেননি নূরনবী, মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ডে গেল প্রাণ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
১০ বছরে একবারও দেশে আসেননি নূরনবী, মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ডে গেল প্রাণ

বগুড়ার শিবগঞ্জের বাদেগাংনই গ্রামের আব্দুস সামাদের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। ১০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন তার একমাত্র ছেলে নূরনবী সরকার (২৭)।

কথা ছিল আগামী কোরবানির ঈদে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।

গত ১২ মার্চ দিবাগত রাতে মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে শ্রমিক কোয়ার্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবর আসার পর মরদেহ দেশে পৌঁছানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের। একমাত্র ছেলের নিথর দেহটি শেষবারের মতো দেখতে পাবেন কি না, তা নিয়ে কাটছে না দুশ্চিন্তা।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে নূরনবীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকাতুর মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে প্রতিবেশীরা ভিড় করে আছেন।

তিন বোনের একমাত্র ভাই নূরনবী ছিলেন পরিবারের আশার প্রদীপ। তার বাবা আব্দুস সামাদ বারবার বিলাপ করে বলছেন, অন্তত মুখটা দেখার ব্যবস্থা করেন। সরকার যেন আমার ব্যাটার লাশটা দ্রুত দেশে পাঠায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মালদ্বীপে সেহরির রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

এতে নূরনবীসহ পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া কতদূর, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্বজনদের মধ্যে। নূরনবীর ভাগনে মাহবুব বলেন, মামা ১০ বছরে একবারও দেশে আসেননি। এবার আসার সব কথা পাকা ছিল। এখন লাশটা কবে আসবে, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags: প্রাণ গেল মালদ্বীপ ১০ বছর দেশে আসেননি নূরনবী অগ্নিকাণ্ডে