গণিতের বিস্ময়কর ধ্রুবক পাই-এর গুরুত্ব এবং এর ইতিহাস তুলে ধরতে প্রতি বছর ১৪ মার্চ দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাতকে প্রকাশ করা এই সংখ্যাটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই।
পাই দিবসের পটভূমি ও স্বীকৃতি পাই দিবসের সূচনা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে সান ফ্রান্সিসকোর এক্সপ্লোরাটোরিয়ামে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক গণিত দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পাই-এর মান ৩.১৪১৫৯... হওয়ার কারণে মার্চ মাসের (৩য় মাস) ১৪ তারিখ দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটে এই দিবসটি পালনের প্রথা রয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় পাই পাই-এর ইতিহাসের শিকড় অনেক গভীরে। জানা যায়, ২৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রখ্যাত গণিতবিদ আর্কিমিডিস প্রথম পাই-এর মান নির্ভুলভাবে গণনার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি পিথাগোরাসের উপপাদ্য ব্যবহার করে এই মানের একটি সীমা নির্ধারণ করেন। তবে ১৭০৬ সালে উইলিয়াম জোনস নামের একজন গণিতবিদ প্রথম বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাত বোঝাতে গ্রিক অক্ষর ‘π’ ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে সুইস গণিতবিদ লিওনার্ড অয়লার এটি জনপ্রিয় করেন।
অমীমাংসিত ও অসীম রহস্য পাই একটি অমূলদ সংখ্যা, যার মান অসীম। দশমিকের পর এর সংখ্যার কোনো পুনরাবৃত্তি ঘটে না এবং এটি কখনো শেষ হয় না। প্রাচীন ব্যাবিলন ও মিশরীয় সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ পর্যন্ত, পাই-এর মান নির্ভুলভাবে বের করার চেষ্টা আজও অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে পাই-এর ট্রিলিয়ন ঘর পর্যন্ত মান বের করা সম্ভব হলেও এর রহস্য এখনো বিজ্ঞানীদের মুগ্ধ করে।
বিজ্ঞানে পাই-এর প্রয়োগ শুধুমাত্র জ্যামিতিক হিসাব নয়, আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান, কোয়ান্টাম ফিজিক্স এবং প্রকৌশলবিদ্যার প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাই-এর উপস্থিতি অপরিহার্য। নাসা (NASA) থেকে শুরু করে স্থাপত্যশৈলী—সবখানেই এই রহস্যময় সংখ্যার ব্যবহার অনস্বীকার্য।