টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে বাংলাদেশে এসেও শেষ রক্ষা হলো না পাকিস্তানের। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরালেও, নির্ণায়ক শেষ ওয়ানডেতে টাইগারদের লড়াকু মানসিকতার কাছে হার মানতে হয়েছে বাবর-শাহীনদের উত্তরসূরিদের। ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ যখন উৎসবের আমেজে মত্ত, ঠিক তখন পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসনের কণ্ঠে ঝরল স্বাগতিকদের পারফরম্যান্সের স্তুতি। বিশেষ করে, বাংলাদেশের তরুণ তুর্কি তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিং প্রতিভা হেসনকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাকে নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রশংসা করতে দ্বিধা করেননি।
তামিমের টেকনিকে মুগ্ধ হেসন নির্ণায়ক ম্যাচে তানজিদ তামিমের ইনিংসটি ছিল আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের এক নিখুঁত প্রদর্শনী। তার ব্যাটিং বিশ্লেষণ করতে গিয়ে হেসন বলেন, “তানজিদ তামিম প্রথম ইনিংসে আমাদের বোলারদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করেছিল, তা ছিল অসাধারণ। সে রান তোলার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেনি। আমরা যেখানেই লাইনে সামান্য ভুল করেছি, সেখানেই সে আমাদের শাস্তি দিয়েছে।”
হেসন আরও গভীরে গিয়ে তামিমের ‘শট সিলেকশন’ ও ‘ক্রিজ ব্যবহারের’ প্রশংসা করেন। তিনি যোগ করেন, “সোজা ব্যাটে যেমন সে বড় শট খেলেছে, তেমনি অফ-সাইডেও তার নিয়ন্ত্রণ ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে স্পিনারদের বিপক্ষে তার ‘Slog Sweep’ এবং ক্রিজের গভীরতা (Depth of the crease) ব্যবহার করে রান বের করার ক্ষমতা প্রশংসনীয়। রিভার্স সুইপের মতো আধুনিক শটেও সে বেশ সাবলীল। মূলত তার এই ইনিংসটিই বাংলাদেশকে একটি বড় স্কোরের ভিত (Solid Foundation) গড়ে দিয়েছিল।”
শাহীনের নেতৃত্ব ও পাকিস্তানের ‘নিউ এরা’ সিরিজ হারলেও হেসন তার দল নিয়ে হতাশ নন। শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তান এখন এক রূপান্তর প্রক্রিয়ার (Transition Period) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। হেসন বলেন, “এটি আমাদের একদম নতুন ধাঁচের একটি ওয়ানডে দল। আমরা এই সিরিজে বেশ কিছু তরুণ ক্রিকেটারকে পরখ করে দেখেছি, যারা ভবিষ্যতের বড় তারকা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। শাহীন অধিনায়ক হিসেবে স্মার্ট এবং সবসময় দলকে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে তরুণদের গাইড করার ক্ষেত্রে সে ‘Tactically Sharp’ ছিল।”
বোলিং কামব্যাক ও লড়াইয়ের মানসিকতা ম্যাচ বিশ্লেষণে পাকিস্তানের বোলিং পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন কিউই এই কোচ। শুরুর ‘Powerplay’-তে বোলাররা কিছুটা লাইন-লেন্থ হারালেও শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার কথা উল্লেখ করেন তিনি। হেসন বলেন, “প্রথম ১৫ ওভারে আমরা কিছুটা অগোছালো ছিলাম। তবে পরের ৩৫ ওভারের বোলিং নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। গতির পরিবর্তন এবং ‘Reverse Swing’ কাজে লাগিয়ে আমরা রান আটকে দিতে পেরেছিলাম। যদি বাংলাদেশ ৩২০-এর বেশি রান তুলে ফেলত, তবে আমাদের আর জেতার সুযোগ থাকত না। কিন্তু আমাদের বোলাররা লক্ষ্যটা হাতের নাগালে রেখেছিল।”
সিরিজ হারলেও সালমান আলী আঘার ব্যাটিং এবং শাহীন আফ্রিদির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হেসন। তবে দিনশেষে তানজিদ তামিমের নান্দনিক ব্যাটিং যে প্রতিপক্ষ কোচের ড্রেসিংরুমেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল, সেটি হেসনের অকপট স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট।