• আন্তর্জাতিক
  • কিউবানরা ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাত নয়, সংলাপ চায়

কিউবানরা ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাত নয়, সংলাপ চায়

মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধংদেহী মন্তব্যে কিউবায় আতঙ্ক ছড়ালেও হাভানার বাসিন্দারা যুদ্ধের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
কিউবানরা ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাত নয়, সংলাপ চায়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে তার অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। দেশটিকে যেকোনো উপায়ে নিজের দখলে নেওয়ার এবং নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাবে কিউবার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, হাভানার বাসিন্দারা সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চাইছেন।

প্রতিবেশী দেশ কিউবার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যেই কিউবাকে নিজের দখলে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তার এই মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে কিউবার সাধারণ মানুষ কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছেন।

ট্রাম্পের দখলদারিত্বের হুমকি ও কিউবানদের প্রতিক্রিয়া রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার হাভানার রাস্তায় কিউবানরা জড়ো হয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার গভীর মতপার্থক্য মেটাতে সংলাপের প্রতি তাদের সমর্থন জানান। ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন সংশয় রয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। ৫০ বছর বয়সী সরকারি কর্মী মারিয়ানেলা আলভারেজ বলেন, 'আমরা কিউবাকে নিয়ে তার এই মানসিকতায় স্তম্ভিত। আমরা চাই তিনি আমাদের শান্তিতে থাকতে দিন।'

অবরোধ ও আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও উভয় সরকার দাবি করছে যে তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে কিউবার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দ্বীপরাষ্ট্রটির ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেছে। ট্রাম্প তার বক্তব্যে কখনো 'বন্ধুসুলভ দখল', আবার কখনো সরাসরি দখলদারিত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ইস্যুকে কিউবার চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

কিউবার অভ্যন্তরীণ সংকট ও সামরিক প্রস্তুতি হাভানার বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হওয়ার ফলে দেশের বিশাল অংশ এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। এই সংকটের মধ্যেই কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সামরিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। প্রতি রাতে সংবাদে বেসামরিক নাগরিকদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যাচ্ছে। কমিউনিস্ট সরকারের ‘সমগ্র জনগণের যুদ্ধ’ কৌশলের অংশ হিসেবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শান্তির জন্য আকুতি ও নিষেধাজ্ঞার যন্ত্রণা সামরিক প্রস্তুতির তোড়জোড় চললেও সাধারণ মানুষ যুদ্ধের বিপক্ষে। ৫৫ বছর বয়সী লুইস এনরিকে গার্সিয়া সাফ জানিয়েছেন, 'সংলাপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমি যুদ্ধ চাই না।' অন্যদিকে, ৫৮ বছর বয়সী বারবারা রদ্রিগেজ কিউবার বর্তমান শোচনীয় অবস্থার জন্য সরাসরি মার্কিন অবরোধকে দায়ী করেছেন। ১৯৬০-এর দশক থেকে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় ক্লান্ত কিউবানরা এখন শুধু একটু স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন।

Tags: donald trump geopolitics cuba usa-cuba relations havana us embargo