ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতে নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার গত মঙ্গলবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন। তার মতে, গত কয়েক সপ্তাহের অভিযানে ইরান নাটকীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিজয় দাবি ও অসমাপ্ত লক্ষ্য গিদেওন সার বলেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমরা ইতোমধ্যে বিজয় পেয়েছি। দেশটি এমন এক ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে তারা যে অবস্থানে ছিল, সেখানে আর ফিরে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।” তবে তিনি এও যোগ করেন যে, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। তার ভাষায়, “ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আমাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। আমরা এই হুমকিকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চাই। মিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
অপারেশন ‘রোয়ারিং লায়ন’ ও মার্কিন ভূমিকা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ ২১ দিনের সংলাপ চলে। কোনো সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় সামরিক সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করলে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলও ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ পরিচালনা করে।
শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান ইসরায়েলি ও মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি এবং আইআরজিসি-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌর। এছাড়া এই যুদ্ধে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে।
পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও ইরান এখনো পিছু হঠেনি। যুদ্ধের শুরু থেকেই তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশে (সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও ওমান) অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেহরান দাবি করেছে, তারা তাদের শীর্ষ নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।