ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) প্রধান ড. আলি লারিজানি নিহতের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, লারিজানির শাহাদাতের প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আকারে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে।
অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ এবং লক্ষ্যবস্তু আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলাটি ছিল ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৬১তম ধাপ। হামলায় ইরানের অত্যাধুনিক খোররামশাহর-৪, কাদর, ইমাদ এবং খাইবার শেকান প্রজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে। তেলআবিব ছাড়াও অধিকৃত পবিত্র আল-কুদস (জেরুজালেম), হাইফা বন্দর, বে'র শেভা এবং নেগেভ মরুভূমির কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতি ইরান দাবি করেছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের বহুস্তরীয় ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মেরিন কর্পসের তথ্যমতে, এই বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ২৩০ জনেরও বেশি জায়নবাদী হতাহত হয়েছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বৈশ্বিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাত এখন তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ২,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ রুদ্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।
কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা জানিয়েছেন, শত্রুদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে। ফলে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।