ডিজিটাল কানেক্টিভিটির (Digital Connectivity) ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। এবার চলন্ত ট্রেনের ভেতরেই যাত্রীরা উপভোগ করতে পারবেন ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেস-এক্স (SpaceX)-এর উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ (Starlink)। শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) পরীক্ষামূলকভাবে দেশের জনপ্রিয় ও ভিআইপি (VIP) আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে এই ফ্রি ওয়াইফাই (Free Wi-Fi) সেবা চালু করেছে।
প্রাথমিকভাবে যে ট্রেনগুলোতে মিলবে এই সেবা রেলওয়ে ও বিএসসিএল সূত্রে জানা গেছে, আপাতত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের ট্রেনে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। ট্রেনগুলো হলো— পর্যটক এক্সপ্রেস (ঢাকা-কক্সবাজার), উপবন এক্সপ্রেস (ঢাকা-সিলেট) এবং বনলতা এক্সপ্রেস (ঢাকা-রাজশাহী)। এই ট্রেনগুলোর যাত্রীরা এখন থেকে কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে সরাসরি স্টারলিংকের হাই-স্পিড ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারবেন।
সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ও তদারকি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত বুধবার (১১ মার্চ) তিনি নিজেই দু’দফা পরিদর্শন করে কারিগরি দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন। উপদেষ্টা জানান, "স্মার্ট বাংলাদেশ (Smart Bangladesh) বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশের সকল বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই চলন্ত ট্রেনে এই স্টারলিংক কানেক্টিভিটি (Connectivity) নিশ্চিত করা হয়েছে।"
ভ্রমণকালীন কাজের নতুন সুযোগ চলন্ত ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের অভাবে এতদিন যাত্রীরা অফিসের কাজ বা পড়াশোনায় সমস্যার সম্মুখীন হতেন। বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) ইমাদুর রহমান বলেন, "সরকারের ডিজিটাল ইশতেহার অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই সেবার ফলে যাত্রীরা ট্রেনের ভেতরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing), অনলাইন ক্লাস (Online Class) বা জরুরি অফিসের কাজ অনায়াসেই সারতে পারবেন। এটি আমাদের রেলওয়ে সার্ভিসকে আরও আধুনিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করবে।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান এই উদ্যোগকে রেলওয়ের প্রতি যাত্রীদের আকর্ষণ বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ননস্টপ (Non-stop) ও উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতেও স্টারলিংকভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্থায়ীভাবে চালু করা হবে।
এর আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক স্পেসে (Public Space) প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।