পাকিস্তান তাদের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করছে এবং এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে যা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রকে আন্তঃমহাদেশীয় সীমানায় পৌঁছে দেবে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এই উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান শিগগিরই আইসিবিএম (ICBM) বা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক হতে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের সতর্কতা সিনেটে পেশ করা প্রতিবেদনে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড জানান, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান এখন দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
হুমকির তালিকায় আরও যে দেশগুলো মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কেবল পাকিস্তান নয়, বরং রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানকেও সম্ভাব্য হুমকির তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
পাকিস্তানের অবস্থান ও আঞ্চলিক সমীকরণ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন মূলত তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত। কিন্তু নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তানের সামরিক লক্ষ্যমাত্রা এখন কেবল আঞ্চলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই।
পাকিস্তানের এই বর্ধিত সক্ষমতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।