• আন্তর্জাতিক
  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: হামলার মুখে ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’, অগ্নিকাণ্ডে অকেজো ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’—কোথায় এখন মার্কিন নৌবহর?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: হামলার মুখে ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’, অগ্নিকাণ্ডে অকেজো ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’—কোথায় এখন মার্কিন নৌবহর?

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
 ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: হামলার মুখে ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’, অগ্নিকাণ্ডে অকেজো ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’—কোথায় এখন মার্কিন নৌবহর?

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তটস্থ নিমিৎজ শ্রেণির রণতরী; অন্যদিকে ৩০ ঘণ্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’—মধ্যপ্রাচ্যে কি চাপে পড়ছে পেন্টাগন?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক চরম উত্তজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বজায় রাখতে পেন্টাগন অঞ্চলের জলসীমায় মোতায়েন করেছিল তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দুই যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। তবে সাম্প্রতিক ঘটনপ্রবাহ বলছে, এই দুই 'ফ্লোটিং এয়ারবেস' বা ভাসমান বিমানঘাঁটি এখন বেশ বিপর্যয়ের মুখে। ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং জাহাজের অভ্যন্তরে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডের ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এখন প্রশ্নের সম্মুখীন।

ইরানের হামলায় কোণঠাসা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন একটি নিমিৎজ শ্রেণির (Nimitz-class) পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী। প্রায় ১ লাখ টন ওজনের এই জাহাজটি ১ হাজার ৯২ ফুট দীর্ঘ এবং এতে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট (F/A-18 Super Hornet) ও এফ-৩৫সি লাইটনিং-এর (F-35C Lightning II) মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানসহ প্রায় ৯০টি এয়ারক্রাফট বহন করা সম্ভব। গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল।

তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করেছে, তারা এই রণতরীকে লক্ষ্য করে এ পর্যন্ত তিনটি বড় আকারের সমন্বিত হামলা (Coordinated Attack) চালিয়েছে। সবশেষ গত বুধবার (১৮ মার্চ) উপকূলীয় ঘাঁটি থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। এর আগে ৫ এবং ১৩ মার্চ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ আক্রমণে জাহাজটির অপারেশনাল ক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার দাবি করে ইরান। বর্তমানে এই রণতরীটি হরমুজ প্রণালী থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডে অকেজো বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’

মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব এবং বিশ্বের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড (USS Gerald R. Ford) বর্তমানে কার্যত অকেজো অবস্থায় রয়েছে। লোহিত সাগরে মোতায়েন থাকা এই জাহাজটিতে গত সপ্তাহে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। 'নিউইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রু (Crew) সদস্যদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাহাজটির অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৬০০ জন নৌসদস্যের থাকার জায়গা বা লিভিং কোয়ার্টার পুড়ে যাওয়ায় তাদের এখন মেঝেতে ঘুমাতে হচ্ছে। জাহাজের লন্ড্রি, স্যানিটেশন এবং মৌলিক লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমগুলো অচল হয়ে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ায় অনেক সদস্য শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত এই রণতরীটিকে মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১০ মাস সমুদ্রে মোতায়েন থাকায় (Extended Deployment) জাহাজ এবং এর কর্মীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ চরমে পৌঁছেছে বলে সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

বাহরাইনে মার্কিন ৫ম নৌবহরে আঘাতের দাবি

শুধু সমুদ্রেই নয়, স্থলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত নিশানায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ৫ম নৌবহরের (U.S. 5th Fleet) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্যের ওপর একটি বড় ধরনের কৌশলগত আঘাত (Strategic Blow) হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রণকৌশলগত অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, মার্কিন রণতরীগুলোর এই বিপর্যয় পেন্টাগনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো ট্রিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট যদি অগ্নিকাণ্ড বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘকাল অকেজো থাকে, তবে লোহিত সাগর ও আরব সাগরে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের সম্পদ রক্ষায় এবং ক্রু সদস্যদের মনোবল ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে মে মাস পর্যন্ত মোতায়েন বাড়ানোর যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত জলসীমায় মার্কিন এই দুই দানবীয় রণতরীর ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

Tags: middle east drone strike us navy military news missile attack irgc iran conflict aircraft carrier abraham lincoln gerald ford