পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে ভোলার প্রবেশদ্বারগুলোতে নামতেই সেই আনন্দের রেশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। প্রয়োজনীয় গণপরিবহন বা Public Transport-এর অভাবে ভোলার লঞ্চঘাটগুলোতে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য মিলছে না কাঙ্ক্ষিত যানবাহন, আর এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু চালক মেতেছে ভাড়ার নৈরাজ্যে।
ইলিশা ঘাটে ১৬ হাজার যাত্রীর ‘জনসমুদ্র’ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে দেখা যায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য। ঢাকা সদরঘাট থেকে একযোগে ৮টি বড় যাত্রীবোঝাই লঞ্চ ঘাটে এসে ভিড়ে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও মজু চৌধুরী হাট রুট থেকে আরও চারটি লঞ্চ ও সি-ট্রাক ঘাটে পৌঁছায়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষ একসাথে ইলিশা ঘাটে নামলে মুহূর্তেই পুরো এলাকা জনসমুদ্ধে পরিণত হয়। বিশাল এই জনস্রোতের তুলনায় ঘাটে থাকা বাসের সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য, যার ফলে তৈরি হয় তীব্র পরিবহন সংকট।
তীব্র রোজা ও চৈত্রের গরমে চরম ভোগান্তি পরিবহন না পেয়ে নিরুপায় হয়ে শত শত পরিবার ব্যাগ-প্যাকিং এবং ছোট শিশুদের নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে ভোলা-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়কে এসে অবস্থান নেন। চলমান রমজান মাস এবং চৈত্রের প্রচণ্ড দাবদাহে নারী ও শিশুদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। রাস্তার দু’পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো রিকশা বা অটোরিকশা খালি পাওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রী নুরজাহান ও রহিমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা দুপুর দেড়টায় লঞ্চ থেকে নেমেছি। এখন বিকেল ৪টা বাজে, আড়াই ঘণ্টা ধরে ইলিশা কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। সব গাড়িই যাত্রী বোঝাই। রোজা থেকে রোদে দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
ভাড়ার নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি এই চরম সংকটের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু অসাধু চালক যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘরমুখো মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি দাবি করা হচ্ছে।
চরফ্যাসনগামী যাত্রী রিয়াজ হোসেন অভিযোগ করেন, “ইলিশা ঘাট থেকে ভোলা শহর পর্যন্ত অটোরিকশার নিয়মিত ভাড়া যেখানে ৫০ টাকা, সেখানে আজ ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এই বিশাল Fare Hike-এর কারণে আমরা সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছি। টাকা বেশি দিতে চাইলেও পর্যাপ্ত গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি প্রতি বছর ঈদের সময় ভোলার প্রবেশপথগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না। ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ঈদের এই সময়ে যাত্রী চাপ সামলাতে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করা এবং ভাড়ার নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জন্য নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।