রাজবাড়ীর কালুখালীতে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় রেলওয়ে ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে যাতায়াত করার চরম মাসুল দিতে হলো আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই যুবককে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মর্মান্তিক মৃত্যু রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পোড়াদহ থেকে ছেড়ে আসা গোয়ালন্দ ঘাটগামী লোকাল বা শাটল ট্রেনটি (Shuttle Train) কালুখালীর কালিকাপুর রেলওয়ে ব্রিজে পৌঁছালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিজের কাঠামোর সঙ্গে ট্রেনের ছাদে থাকা ওই যুবকের মাথায় সজোরে ধাক্কা লাগে। আঘাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ওই যুবক ট্রেনের ছাদের ওপরই লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কালুখালী জংশনে মরদেহ উদ্ধার দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে ট্রেনটি কালুখালী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে (Railway Junction Station) প্রবেশ করলে যাত্রীরা ছাদে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেনের ছাদ থেকে মরদেহটি নিচে নামিয়ে আনেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্ধার তৎপরতার কারণে ট্রেনটি স্টেশনে প্রায় ১২ মিনিট বিলম্বে যাত্রা শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য কালুখালী রেলওয়ে জংশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রতন সেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনটি স্টেশনে থামার পর ছাদের ওপর নিথর দেহটি শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে অবহিত করা হয়।
রাজবাড়ী রেলওয়ে (GRP) থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন মিয়া প্রাথমিক তদন্তের পর জানান, “ট্রেনের যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই যুবক পাংশা রেল স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে দৌঁড়ে এসে ছাদে উঠেছিলেন। কালিকাপুর রেলওয়ে ব্রিজ পার হওয়ার সময় উচ্চতা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় মাথায় ব্রিজের কাঠামোর আঘাত লাগে। এতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।”
আইনি প্রক্রিয়া ও পরিচয় শনাক্তকরণ নিহত যুবকের পরনে কী ছিল বা তাঁর পরিচয় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পিবিআই (PBI) বা সিআইডি-র (CID) প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তাঁর আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ও নিরাপত্তা শঙ্কা বাংলাদেশে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও উৎসব বা ভিড়ের সময় সাধারণ মানুষকে এই ঝুঁকি নিতে দেখা যায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্কবার্তা দিলেও এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। আজকের এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।