পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের আপামর জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিশেষ বার্তায় ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ শুভেচ্ছা জানান তিনি। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান গভীর কূটনৈতিক সম্পর্ক (Diplomatic Ties) ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে মোদির এই বার্তাকে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শুভেচ্ছা বার্তায় ভ্রাতৃত্বের জয়গান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ঈদ মোবারক! ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই আনন্দঘন উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও কঠোর ইবাদতের পর ঈদুল ফিতরের এই উৎসব মানুষের মাঝে সহমর্মিতা (Empathy), ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
শান্তি ও সমৃদ্ধির বৈশ্বিক প্রার্থনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা নয়, বরং বিশ্বশান্তি (Global Peace) ও মানবতার কল্যাণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, “ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পবিত্র রমজান মাস পালন করেছেন। ঈদুল ফিতরের এই পবিত্র ক্ষণে আমরা বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের জন্য শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (Harmony), সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
সুদৃঢ় হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক (Bilateral Relations) শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্ব এক অনন্য মাইলফলক। মোদি বলেন, “আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হোক—এই কামনাই রইল।”
কূটনৈতিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট প্রতি বছরই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময় একটি প্রথাগত সংস্কৃতিতে (State Protocol) পরিণত হয়েছে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো নরেন্দ্র মোদির এই বিশেষ বার্তাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভারতের যে আত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন রয়েছে, মোদির বার্তায় সেই চিরন্তন বন্ধুত্বের সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।