দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় সবশেষ ১০ দফা মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে ৭ বারই কমানো হয়েছে বহুমূল্য এই ধাতুর দাম। এর মধ্যে গত ৫ দফায় প্রতি ভরিতে মোট ২৩ হাজার ৫০৩ টাকা কমেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসে অন্যতম বড় দরপতন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) সরবরাহ ও মূল্য হ্রাসের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক দিনেই দুই দফায় বড় পতন বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ছিল স্বর্ণের বাজারের জন্য এক নজিরবিহীন দিন। এদিন সকালেই একবার দাম কমানোর পর বিকেলে পুনরায় মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দেয় বাজুস। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবশেষ দফায় ভরিতে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমানো হয়েছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সকালে প্রতি ভরিতে কমানো হয়েছিল ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। অর্থাৎ, স্রেফ ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১৫ হাজার টাকার বেশি কমেছে।
মানভেদে স্বর্ণের নতুন মূল্য তালিকা বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এছাড়া অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে:
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।
বাজার বিশ্লেষণ ও অস্থিরতা (Market Volatility) চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হলেও ১৯ বার কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালের তুলনায় এবারের বাজারে অস্থিরতা (Market Volatility) অনেক বেশি প্রকট। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং মাত্র ২৯ বার কমানো হয়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারে যোগানের (Supply Chain) পরিবর্তনের কারণে এই ঘনঘন সমন্বয় প্রয়োজন হচ্ছে।
নিম্নমুখী রুপার বাজারও স্বর্ণের ধারাবাহিক দরপতনের ঢেউ লেগেছে রুপার বাজারেও। বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, রুপার দামও ভরিতে ৩৫০ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকায়। চলতি বছর এ নিয়ে মোট ২৯ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হলো।
ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রভাব স্বর্ণের দামে এমন বড় পতনে সাধারণ ক্রেতা ও বিয়ের মৌসুমে গহনা কিনতে ইচ্ছুক পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে যারা উচ্চমূল্যে স্বর্ণ কিনে বিনিয়োগ করেছিলেন, তাদের জন্য এই দরপতন কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং তেজাবি স্বর্ণের দামের এই ওঠানামা আগামী কয়েকদিন বাজারকে আরও কিছুটা অস্থিতিশীল রাখতে পারে। তাই বড় ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।