দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রুপার বাজারে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। টানা চার দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম ভরিতে ১ হাজার ৩৪২ টাকা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবশেষ ১০টি মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে ৬ বারই রুপার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একই দিনে দুই দফা সমন্বয়: নেপথ্যে স্থানীয় বাজার সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রুপার দাম ফের কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (Pure Silver) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, এদিন সকালেই একবার দাম কমানো হয়েছিল, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিকেলে দ্বিতীয় দফায় দাম কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। বিকেল পৌনে ৪টা থেকেই সারা দেশে নতুন এই মূল্য তালিকা কার্যকর হয়েছে।
রুপার নতুন মূল্য তালিকা বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, মানভেদে রুপার দামের বিন্যাস নিম্নরূপ:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরির বর্তমান বাজারমূল্য ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: এই ক্যাটাগরিতে প্রতি ভরি রুপার দাম পড়বে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
উল্লেখ্য যে, এদিন সকালেই ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা করা হয়েছিল। বিকেলের দ্বিতীয় দফার সমন্বয়ে সেটি আরও ৩৫০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়।
বাজার বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যান (Market Analysis) চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ২৯ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বাড়ানো হলেও ১৩ বার কমানো হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০২৫ সালে রুপার বাজার তুলনামূলক ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যেখানে ১৩ বার সমন্বয়ের মধ্যে ১০ বারই দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং কমানো হয়েছিল মাত্র ৩ বার। বর্তমানের এই ধারাবাহিক দরপতনকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় চাহিদা-যোগানের (Supply and Demand) প্রভাব হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বর্ণের বাজারেও বড় পতন রুপার পাশাপাশি স্বর্ণের বাজারেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ভরিতে রেকর্ড ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। চলতি বছর স্বর্ণের দাম মোট ৪৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ বার বৃদ্ধি এবং ১৯ বার কমানোর ঘটনা ঘটেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা বাজারের অস্থিরতাকে (Market Volatility) স্পষ্ট করে।
বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া ধাতব মুদ্রাস্ফীতি ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মাঝে রুপা ও স্বর্ণের এই বিশাল দরপতন জুয়েলারি ব্যবসায় নতুন মোড় নিতে পারে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি সাশ্রয়ী মূল্যে গহনা কেনার সুযোগ তৈরি করলেও, উচ্চমূল্যে কেনা বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) নিয়ন্ত্রণে এই মূল্য হ্রাস ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।