• খেলা
  • নারী ফুটবলে ঐতিহাসিক বিপ্লব: বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ডাগআউটে নারী কোচ বাধ্যতামূলক করল ফিফা

নারী ফুটবলে ঐতিহাসিক বিপ্লব: বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ডাগআউটে নারী কোচ বাধ্যতামূলক করল ফিফা

খেলা ১ মিনিট পড়া
 নারী ফুটবলে ঐতিহাসিক বিপ্লব: বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ডাগআউটে নারী কোচ বাধ্যতামূলক করল ফিফা

ফুটবল ডাগআউটে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে কঠোর অবস্থানে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো; অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে সিনিয়র বিশ্বকাপ—কোচিং প্যানেলে নারী মুখ নিশ্চিত করার নতুন যুগে বিশ্ব ফুটবল।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) নারী ফুটবলের উন্নয়নে এক যুগান্তকারী ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন থেকে মেয়েদের যেকোনো বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কোচিং প্যানেলে নারী কোচের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফিফার সাম্প্রতিক সভায় এই নতুন বিধান অনুমোদিত হয়েছে এবং সংস্থাটি তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছে।

নতুন নিয়মের খুঁটিনাটি: ডাগআউটে নারী শক্তির জয়গান

ফিফার নতুন আইন অনুযায়ী, প্রতিটি দলের ‘ব্যাকরুম স্টাফ’ বা সহযোগী প্যানেলে অন্তত দুইজন নারী সদস্য থাকতে হবে। তবে এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো—এই দুইজনের মধ্যে অন্তত একজনকে অবশ্যই ‘হেড কোচ’ (Head Coach) অথবা ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ’ (Assistant Coach) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র নামমাত্র সদস্য হিসেবে নয়, বরং দলের নীতিনির্ধারণী বা কারিগরি পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ফিফার মূল লক্ষ্য।

এই নিয়মটি ফিফার অধীনে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ এবং বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিফা উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স কাপ’ থেকেই কার্যকর হচ্ছে। এর আওতায় থাকবে জাতীয় দলভিত্তিক এবং ক্লাব পর্যায়ের সমস্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? তথ্যের আয়নায় লিঙ্গ বৈষম্য

নারী ফুটবলের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হলেও ডাগআউটে নারীদের নেতৃত্ব এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দলের মধ্যে মাত্র ১২টি দলের প্রধান কোচ ছিলেন নারী। অর্থাৎ, সিংহভাগ দলের কৌশল সাজিয়েছেন পুরুষ কোচরা। এই দৃশ্যপট বদলে দিতেই ফিফা এবার ‘কোটা’ বা বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের পথে হাঁটল।

ফিফার প্রধান ফুটবল অফিসার জিল এলিস (Jill Ellis) এই পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বর্তমানে কোচিং পেশায় নারীর সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। এই পরিবর্তনের গতি ত্বরান্বিত করতে আমাদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চাই ডাগআউট বা ‘সাইডলাইন’-এ নারীদের উপস্থিতি আরও বাড়ুক। ফিফার এই নতুন নিয়ম কেবল একটি বিধান নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ নারী কোচদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ‘ইনভেস্টমেন্ট’ বা বিনিয়োগ।”

ইনফান্তিনোর লক্ষ্য: নেতৃত্বের আসনে নারী

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বা ‘Leadership Roles’-এ নারীদের আরও বেশি করে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, নারী ফুটবলকে আরও বেশি স্বকীয়তা দিতে নারী কোচদের বিকল্প নেই। ইনফান্তিনো বলেন, “আমরা সাম্প্রতিক ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দেখেছি নারী ফুটবলের গুণগত মান কতটা বেড়েছে। এখন সময় এসেছে দক্ষ নারী কোচদের বিশ্বমঞ্চে বড় সুযোগ করে দেওয়ার।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশলগত উন্নয়ন

ফিফা কেবল নিয়ম করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং বিশ্বজুড়ে নারী কোচদের মানোন্নয়নে ‘টার্গেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ বা লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারী কোচদের উন্নত প্রশিক্ষণ, লাইসেন্সিং এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য কাজ করবে সংস্থাটি। ফিফার দীর্ঘমেয়াদী এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো—নারীদের কেবল মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং মাঠের বাইরের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে গড়ে তোলা।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে নারী ফুটবলারদের অবসরোত্তর ক্যারিয়ার গড়ার নতুন পথ উন্মোচিত হলো। এটি যেমন ফুটবল ডাগআউটে বৈচিত্র্য আনবে, তেমনি নারী ফুটবলকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Tags: gender equality gianni infantino head coach sports leadership womens football female coach fifa mandate football coaching womens worldcup coaching panel