বিশ্বকাপের দুই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচের জন্য শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। তবে ফুটবল বিশ্বের কোটি ভক্তের জন্য মন খারাপ করা খবর হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে দলের সঙ্গে থাকছেন না পর্তুগিজ ফুটবল ইতিহাসের বরপুত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। হ্যামস্ট্রিং চোটের (Hamstring Injury) ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারায় পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকাকে ছাড়াই স্কোয়াড সাজাতে বাধ্য হয়েছেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ।
চোটের গভীরতা ও স্পেনে উন্নত চিকিৎসা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে খেলার সময় পেশির চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে সাধারণ মাংসপেশির টান মনে করা হলেও, পরবর্তীতে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায় ইনজুরিটি বেশ গুরুতর।
রোনালদোর বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে আল-নাসর কোচ জর্জে জেসুস বলেন, “ক্রিশ্চিয়ানোর ইনজুরি আমরা যা ভেবেছিলাম তার চেয়েও জটিল। পেশাদার অ্যাথলেট হিসেবে তার পূর্ণাঙ্গ বিশ্রাম ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন। এ কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে স্পেনে পাঠানো হয়েছে, যেন তিনি দ্রুত রিকভারি করতে পারেন।”
জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষা বাড়ল আরও
এর আগে নিষেধাজ্ঞার খড়গে পড়ে গত নভেম্বরে আর্মেনিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে খেলতে পারেননি সিআর সেভেন (CR7)। ওই ম্যাচে ব্রুনো ফার্নান্দেজরা ৯-১ গোলের বিশাল জয় পেলেও রোনালদোর অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কথা ছিল, এবারের ফিফা উইন্ডোতে (FIFA Window) জাতীয় দলের নেতৃত্বে ফিরবেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা তাকে আবারও মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিল।
উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আর কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি রোনালদোর। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু আটলান্টায় এবারের ম্যাচটি তার জন্য ছিল এক বিশেষ উপলক্ষ্য। ফিট থাকলে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোনো এই তারকার জন্য এই চোট নিঃসন্দেহে বড় এক ধাক্কা।
মার্টিনেজের স্কোয়াড ও রণনীতি
রোনালদোকে ছাড়াই পর্তুগাল দল তাদের পরবর্তী মিশন শুরু করবে। আগামী ২৮ মার্চ মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে এবং ১ এপ্রিল আটলান্টায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। দলের প্রধান গোলস্কোরারকে ছাড়াই আক্রমণভাগ সাজানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে কোচকে। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, রাফায়েল লেয়াও এবং জোয়াও ফেলিক্সদের মতো তারকাদের উপস্থিতিতে পর্তুগালের মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড লাইন এখনো যথেষ্ঠ শক্তিশালী।
ঘোষিত পর্তুগাল স্কোয়াড একনজরে:
গোলরক্ষক: দিয়েগো কস্তা, হোসে সা, রুই সিলভা। ডিফেন্ডার: ম্যাথিউস নুনেস, দিয়োগো দালোত, জোয়াও কান্সেলো, নুনো মেন্দেস, গঞ্জালো ইনাসিও, রেনাতো ভেইগা, অ্যান্তনিও সিলভা, টমাস আরাউহো। মিডফিল্ডার: রুবেন নেভেস, সামু কস্তা, ম্যাথিউস ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেস, রদ্রিগো মোরা। ফরোয়ার্ড: রিকার্ডো হোর্তা, পেদ্রো গঞ্জালেস, জোয়াও ফেলিক্স, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, ফ্রান্সিসকো কনসেইকাও, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো, গঞ্জালো গুয়েদেস, গঞ্জালো রামোস।
ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, রোনালদোর অনুপস্থিতিতে গঞ্জালো রামোস কিংবা জোয়াও ফেলিক্সদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ নিজেদের প্রমাণের। তবে রোনালদোর যে ক্যারিশমাটিক উপস্থিতি এবং লিডারশিপ কোয়ালিটি (Leadership Quality), তা মাঠের লড়াইয়ে পর্তুগাল মিস করবে তা বলাই বাহুল্য।