সারা দেশ যখন পবিত্র ঈদুল ফিতরের অনাবিল আনন্দ আর উৎসবের জোয়ারে ভাসছে, তখন জাতীয় পতাকার মান রাখতে ঘর-সংসার আর উৎসবের মায়া ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। উৎসবের দিনেও বিন্দুমাত্র বিশ্রামের জো নেই জামাল ভূঁইয়া কিংবা আফিদা-মোর্শেদাদের। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে যখন সাধারণ মানুষ ঈদের জামাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন দেশের তিনটি ভিন্ন ফুটবল দল তিনটি আলাদা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ডানা মেলেছে আকাশপথে।
ভিয়েতনামে পৌঁছেছেন জামালরা, কাল যোগ দিচ্ছেন হামজা
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও তার সতীর্থরা এখন ভিয়েতনামের হ্যানয়ে। শুক্রবার রাতেই তারা ঢাকা ত্যাগ করেন। চীনের গুয়াংজুতে কয়েক ঘণ্টার ট্রানজিট বা যাত্রাবিরতি শেষে আজ শনিবার সকালে তারা ভিয়েতনামে পৌঁছান। তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রিমিয়ার লিগ তারকা হামজা চৌধুরী। ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি রওনা হয়ে আগামীকাল রোববার তার ভিয়েতনামে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। হামজার অন্তর্ভুক্তি দলকে মানসিকভাবে বাড়তি বুস্ট (Boost) দেবে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
আগামী ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচ (Friendly Match) খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি মূলত দলের শক্তি পরীক্ষার একটি বড় মাধ্যম। এরপর ২৭ মার্চ জামালরা উড়াল দেবেন সিঙ্গাপুরে। সেখানে ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের (Asian Cup Qualifiers) শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজরা। সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যে এশিয়ান কাপে উত্তীর্ণ হওয়ায় ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অনেকটা নিয়মরক্ষার বা ‘ডেড রাবার’ (Dead Rubber) হলেও, জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে মরিয়া কোচ ও ফুটবলাররা।
ব্যাংকক ও মালদ্বীপের পথে বয়সভিত্তিক দুই দল
জাতীয় দলের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছে দেশের উদীয়মান ফুটবলাররাও। আজ সকালে যখন পাড়া-মহল্লায় ঈদের আনন্দধ্বনি শোনা যাচ্ছিল, ঠিক তখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ দল মালদ্বীপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ে। সেখানে তারা সাফ (SAFF) অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
একই সময়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল থাইল্যান্ডের ব্যাংককের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা এএফসি (AFC) অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ঢাকা ত্যাগ করেন। আফিদা ও মোর্শেদাদের মতো নির্ভরযোগ্য ফুটবলারদের কাঁধে ভর করে ব্যাংককের মাটিতে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছে দেশবাসী।
পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ
উৎসবের দিনে প্রিয়জনের সান্নিধ্য ছেড়ে বিদেশের মাটিতে খেলতে যাওয়া পেশাদারিত্বের এক অনন্য উদাহরণ। ফুটবল ফেডারেশন (BFF) সূত্রে জানা গেছে, খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ঠিক রাখতে এবং পারফরম্যান্সে যেন প্রভাব না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। ঈদের নামাজ কিংবা বিশেষ খাবার—সবকিছুর সুযোগ না থাকলেও বিদেশের মাটিতে দেশের হয়ে জয় ছিনিয়ে আনাই এখন ফুটবলারদের কাছে শ্রেষ্ঠ ঈদ উপহার।
ফুটবলারদের এই আত্মত্যাগ এবং বিদেশের মাটিতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও লড়াই করার মানসিকতা সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২৬ ও ৩১ মার্চের লড়াইয়ে বাংলাদেশ দল কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারবে—এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের।